WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে প্রতিদিনই আসেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে আলাদা আলাদা গল্প। কিন্তু কখনও কখনও সেই গল্পগুলো হয়ে ওঠে সাহস, বিজ্ঞান আর আশার এক অনন্য মেলবন্ধন—ঠিক যেমনটি ঘটেছে ৩৪ বছর বয়সী একজনের ক্ষেত্রে। বুক ধড়ফড় করা আর মাঝেমধ্যে মাথা ঘোরার মতো সাধারণ উপসর্গ নিয়েই তিনি মিশন হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু বিস্তারিত পরীক্ষায় সামনে আসে এক জটিল ও বিরল হৃদরোগ— ‘সাইনাস ভেনোসাস এএসডি উইথ পিএপিভিসি’। এটি এমন একটি ত্রুটি, সাধারণত এই সমস্যার চিকিৎসায় প্রয়োজন হয় ওপেন-হার্ট সার্জারি, যা মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়।

কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ব্যক্তির কাছে বড় অস্ত্রোপচার মানেই ছিল অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ বিরতি আর মানসিক চাপ। তিনি খুঁজছিলেন এমন এক সমাধান, যা হবে নিরাপদ, কার্যকর এবং কম কষ্টসাধ্য। ঠিক তখনই এগিয়ে আসে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল। ডা. হেমন্ত কুমার নায়েকের নেতৃত্বে ‘পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি’ বিভাগের লক্ষ্য হল চিকিৎসার প্রচলিত ধারাকে বদলে দেওয়া। স্বাভাবিক ভাবেই ডা. হেমন্ত কুমার নায়েকের টিমের লক্ষ্য থাকে শুধু রোগ সারানো নয়, রোগীর জীবনকে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা।

নিখুঁত পরিকল্পনা ও উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে চিকিৎসকরা প্রয়োগ করেন ‘এসভিসি স্টেন্টিং’-ভিত্তিক ‘মিনিম্যালি ইনভেসিভ’ বা ন্যূনতম ধকল সৃষ্টিকারী ক্যাথেটার-ভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা হৃদপিণ্ডের ভেতরের সেই ত্রুটিটি সংশোধন করে ফেলেন—ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়াই। ফলাফলও ছিল অবিশ্বাস্যরকম ইতিবাচক। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। দ্রুত হাসপাতাল থেকে ছুটি পান এবং মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ফিরে যান নিজের কর্মজীবনে—যা প্রচলিত পদ্ধতির অস্ত্রোপচারে ভাবাই যেত না!