উদ্ভাবনের মঞ্চে তরুণদের উড়ান: ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে AICTE বুটক্যাম্পে নতুন আশার আলো

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পাঁচ দিনের এক যাত্রা—যেখানে শুধু পড়াশোনা নয়, স্বপ্ন দেখা আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস শিখল দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণ-তরুণীরা। All India Council for Technical Education-এর পৃষ্ঠপোষকতায় Dr. B. C. Roy Engineering College-এ আয়োজিত “Innovation, Design and Entrepreneurship Boot Camp” শেষ হল ঠিক এই আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েই। মোট ২২২ জন শিক্ষার্থী—কেউ বিহার থেকে, কেউ বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে—একত্রিত হয়েছিল এই উদ্যোগে। ৩৯টি দলে ভাগ হয়ে তারা শুধু নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনা করেনি, বরং সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে একসঙ্গে ভেবেছে, বিতর্কে মেতেছে, আবার নতুন করে পথ খুঁজেছে।

এই কয়েকটা দিনে তারা শিখেছে—একটা ভাবনা কীভাবে ধীরে ধীরে একটি বাস্তব পণ্য বা পরিষেবায় পরিণত হতে পারে। কীভাবে সেই ভাবনাকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে একটি ‘স্টার্ট-আপ’, যা শুধু নিজের নয়, অন্যের জীবনও বদলে দিতে পারে।শেষ দিনে ছিল এক অন্যরকম উত্তেজনা। নিজেদের তৈরি আইডিয়া ও মডেল বিচারকদের সামনে তুলে ধরার সময় অনেকের চোখে ছিল স্বপ্ন, আবার একটু উদ্বেগও। বিচারকদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, শিল্পপতি, সরকারি আধিকারিক ও ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ মানুষ—যারা শুধু নম্বরই দেননি, দিয়েছেন দিকনির্দেশনাও।

শেষ পর্যন্ত তিনটি দল সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়—বিহারের সহরসার SCE কলেজ, আয়োজক Dr. B. C. Roy Engineering College এবং মালদার গনি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি। তাদের উদ্ভাবিত ‘IronGaze’, ‘Koke Vayu’ ও ‘Syner Tech’ শুধু প্রোজেক্ট নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে। এই বুটক্যাম্প শেষ হলেও, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মনে যে আত্মবিশ্বাস আর নতুন করে কিছু করার ইচ্ছা জন্ম নিয়েছে—সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর স্বপ্ন তখনই সত্যি হবে, যখন এই তরুণরাই নিজেদের ভাবনা দিয়ে নতুন পথ তৈরি করবে—এই বিশ্বাস আরও একবার জোরালো হলো এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

Related Posts