সুরে সুরে বাংলা

সুরে সুরে বাংলা, লিখছেন মানু গৌতম

আমার ছেলে বেলায় দেখতাম রসবোধে বাংলার ভূমি টইটম্বুর থাকতো। রাতে লন্ঠনের মৃদু আলোয় যখন অনিদ্রিত রাত কাটাতাম তখন তো সেই সুরের ভেলায় ভেসে যেতাম, কখনও একাই হেসে উঠতাম, কখনও মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যেতো, কিন্তু হরষিত বা বিষাদিত যাই হোক না কেন সুরটা রয়েই যেত।
আসুন উদাহরণ দিয়ে আলোচনা করি ।

সঙ দেখানো
সঙ কথাটির আভিধানিক অর্থ বিশেষ কৌতুক উদ্দীপক পোষাক পরিহিত ব্যক্তি বা হাস্য অভিনয় বা ভাঁড়ামি।
দেখতাম আমাদের পাড়ার জগু মাঝি ছেঁড়া চটের পোষাক পড়ে মুখে চুন কালি দিয়ে কিম্ভুতকিমাকার সেজে বুকে কাগজে লিখে দিত বিখ্যাত ব্যক্তির নাম, তার পর বাড়ি বাড়ি ঘুরে মজাদার ডায়লগ বলতো, কখনও কখনও গান করতো, তার পর কিছু পয়সা বা সামগ্রী দাবি করতো।
যেমন, একবার দেখেছিলাম ইন্দিরা গান্ধী সাজতে। আমাদের বাড়ি এসে বললো, আমি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, আমি তোমাদের কোনও অভাব রাখবো না, আমি ঝাঁটা চিহ্নে দাঁড়িয়েছি, আমাকে ভোট দাও, আমি গল্প করার জন্য ইস্কুল বানাবো, প্রেম করার জন্য কলেজ বানাবো, জল নেওয়ার জন্য বাথরুম বানাবো, পায়খানা করার জন্য কল বানাবো।
তার পর ই গান ধরে ফেললো ,
“কোন শালা চাষা বলে
বাড়ি আমার রাজ পুরীতে
বিয়ে করবো বর ডেঙ্গাতে
হাত বুলাবে রাম ভুঁড়িতে।”
তার পর বলল ও খুড়ি দাও দেখি “মণ টেক বিড়ি আর পণ টেক মুড়ি ”
কারো বাড়ি গিয়ে বলতো,
এক চাপ কা দাও তো তেষ্টা পেয়েছে, কথাটা ছিলো এক কাপ চা, বর্ণ বিপর্যয় ঘটিয়ে হল, এক চাপ কা। কত রস বোধ দেখুন!

হাবু গাওয়া
এক ধরণের উপজাতি আসতো, আমাদের কেউ বলতো বেদুইন, কেউ বলতো উড়ে, কেউ বলতো ভবঘুরে, তাদের কথ্য ভাষা আমরা বুঝতাম না, কিন্তু বাড়ি বাড়ি তারা বাংলাই বলতো। তাদের জীবিকা ছিলো পশুপালন ও শিকার, তাদের সাথে শুয়োর থাকতো ও তারা পশু পাখি শিকার করতো। তারা গ্রামের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে থাকতো,আর বিশেষ আকর্ষণ ছিল একটা বিরাট ঠোঁট যুক্ত পাখি যার নাম ধনেশ পাখি। তার হার নাকি বিরাট কাজ দেয়, হাঁটুর ব্যাথা-কোমরের ব্যাথায়। এই হার কোমরে বেঁধে নিলে নিমেষে গায়েব হয়ে যাবে ব্যাথা, এটা তারা বিক্রয় করতো।
আর ছোট ছোট বাচ্চাদের পাঠাতো হাবু গেয়ে ভিক্ষা করতে। তারা একটা বাঁশের ছোট লাঠি (পাঁচন) নিতো এবং গান করার ফাঁকে ফাঁকে তাকে চিত্তাকর্ষক করার জন্য নিজের পিঠে বাড়ি মারতো, পিঠটা খুলে দেখতাম ফুলে কালো হয়ে আছে, সংবেদনশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে, এই মার তাদের লাগতো না। আর মুখে বিশেষ রকম আওয়াজ করতো।
এদের গান গুলি ছিলো এখন যাকে জীবন মুখী গান বলছে বা যাকে ইংরাজীতে পপ বলা হয় সেই রকম দ্রুত লয়ে ছন্দ বদ্ধ কিছু কথা।
যেমন একটা উদাহরণ-
“হাবু গেলো বিয়ে করতে
কানা রিসকায় চড়ে (রিক্সার বর্ণ বিপর্যয়)
এমন সময় রিসকা গেলো
গর্তেতে পড়ে
আহা বেশ বেশ বেশ।
এমন সময় পাড়ার লোকে
দৌড়ে এলো কাছে
রব উঠলো বিশাল
ডাকাতি পড়েছে।
আহা বেশ বেশ বেশ।
এমন সময় গাবলু তাকে
মারলো এক গুঁতো
সেই গুঁতো খেয়ে হাবলুর
বেড়িয়ে গেলো সুতো
আহা বেশ বেশ বেশ
মুখটা দেখে আঁতকে ওঠে
মোড়ল পাড়ার নিমাই
চেঁচিয়ে বলে থাম থাম
আমাদের ওটা জামাই
আহা বেশ বেশ বেশ”
হয়তো কোন ভালো লোকের পাল্লায় পড়লে এটাই বাংলার প্রথম পপ সঙ্গীত হিসাবে ঠাঁই পেতো! কিন্তু তা কালের গ্রাসে চলে গেল।

ঘোড়া নাচ
এটি সাধারণত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা করতো। যখন চাষের সময় বৃষ্টির অভাবে দেখা দিত, তখন আসতো ঘোড়া নাচ, কয়েকজন মানুষ একটি কাঠের ঘোড়ার রেপ্লিকা কোমরে বেঁধে নাচ দেখাতো, প্রথমে আসর তৈরি করতে একটা মুখবন্ধ পাঠ করতো।
যেমন, “ক্ষুদে মঙ্গল বারে জল হয় নাই বলে ঘোড়ানাচ দেখাতে এসেছি আপনারা আল্লার দোয়ার জন্য দান করুন।”
তার পর গান ও নাচ শুরু হতো
যেমন,
“হাজি মুস্কিল আসান করো
হেঁটো (হাঁটু) ভাঙো পীড়।
শ্যাম বাজারে দেখে এলাম
ডিবি নাচাচ্ছে
কাটোয়া তে দেখে এলাম
কাকের গান হচ্ছে
হাজি….”
কখনো শুনতাম
“আল্লা ম্যাগ দে পানি দে
ম্যাগ দে রে,আল্লা”
সেই করুণ আর্তনাদ ধ্বনি-প্রতিধ্বনির মাধ্যমে হয়তো অন্তর্যামীর কাছে পৌঁছে যেতো, তাই তো দেখতাম বিকালে অঝোরে বৃষ্টি ঝড়ে পড়তো। মাটির সোঁদা গন্ধে আল্লার রহমত সকলে স্মরণ করতো।

ঝাঁপান দেখানো
রাঢ় বাংলায় এক ধরনের ইঙ্গ আফ্রো জাতি গোষ্ঠীর মানুষ আছে, যাদের পদবি মাল। তারা সাপুড়ে বা বেদে নামে খ্যাত। এদের আদিবাসী সম্প্রদায় ভুক্ত করা হয়েছে। ধর্মের দিকে এদের এক অদ্ভুত অবস্থান। এদের মৃত্যুর পর গোর দেওয়া হয়। এবং বিবাহ হয় কোনও ইমামের তত্বাবধানে। কিন্তু শিব, মনসা ইত্যাদি ঠাকুরের পুজো দিতেও দেখি। অর্থাৎ এরা হিন্দু ও মুসলিম ধর্মের মাঝামাঝি অবস্থান। এরা বাড়ি বাড়ি বা কোনও তে-রাস্তার মোড়ে সাপের খেলা দেখায়। একেই বলে ঝাঁপান। তার সাথে কখনও কখনও থাকতো পুতুল নাচ ও সহজ সরল‌ ম্যাজিক। সাপ নাচাবার সময় যে গান করতো আর নাচতো, সেটাই হলো ঝাঁপান, এটি আজও টিকে আছে।
পুঁতুল নাচের সময় গান যেমন
“কানন নাচবি কানন
রসের বিনোদিনী কানন।
আর একটা বউ ছিলো
নন্দ ঘোষের ঝি
গামলাতে হেগে (পায়খানা) বলে
ঘুগনী রেঁধেছি
কানন নাচবি কানন””
এর পর ,গলায় একটা কেউটে বা খরিশ সাপ ঝুলিয়ে আর একটা সাপ হাতে নিয়ে গান ধরতো
“ও মা মনসা মনসা
পাই কোথা পয়সা
মা মনসা।
কাপড় বিনে ঘর চলে না
একি অবস্থা মা মনসা।”
গৃহস্থের কাছে গিয়ে সুর ধরতো
“ভালো ভালো শাড়ি আছে
পোটমানের ভিতরে
বের করে এনে আমায়
দাও গো তরা করে
মা মনসা।”

টহল দেওয়া
টহল দেওয়ার অর্থ সজাগ হওয়া বা রাখা। এটি সাধারণত চলে কার্তিক মাসে। হয়তো এই সময় আউশ ধান ওঠার সময় তাই সকালে মাঠে যেতে হবে বলেই হয়তো কোনও এক জন লোককে গ্রামের মানুষ মুষ্টি ভিক্ষা দিয়ে তার দক্ষিণা পুষিয়ে দিতো,
ভোরে ভৈরবীর সুরে কীর্তন এক ফ্যান্টাসির জগতে নিয়ে যেতো।
যেমন গাইতো
“রাই জাগো রাই জাগো বলে
সুখ শারি বলে
কতো নিদ্রা যাও হে প্রভু মা যশোদার কোলে।”
অথবা
ভজ গৌরাঙ্গ কহ গৌরাঙ্গ লহ গৌরাঙ্গের নাম রে
যে জন গৌবিন্দ ভজে
সে হয় আমার প্রাণ রে।”

নগর কীর্তন
বৈশাখ মাসের প্রতি সন্ধ্যায় একদল মানুষ খোল করতাল নিয়ে বের হয় নগর কীর্তনে। এরা গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় নাম-কীর্তন করে বেড়ায়। সাথে থাকে একজন মূল গায়েন, কয়েক জন দুয়ারদার। করতাল ঝাঁঝর কখনও কখনও হারমোনিয়াম ও দুটি খোল। প্রতিটি ঠাকুর মন্দিরে হরিবোল দিয়ে বিরাম নেওয়া হয়। গাওয়া হয় ছোট পদ।
নগর কীর্তনের নমুনা-
“বল হরি বল
ভজ মনকে বলি
পথেরি সম্বল হারায়ো না।
আছে এক নদী
ভীষণ জলধী
দূরন্ত তাহার ঢেউ রে
সেই ভব নদী পার হবে যদি
একবার হরি বল রে।” (সংক্ষেপিত)
কখনও কখনও এক নাম,অর্থাৎ হরে কৃষ্ণ নাম ও গাওয়া হতো।
তার পর পাড়ার মোড়ে মোড়ে হয় অষ্ট প্রহর বা ২৪ প্রহর। অষ্ট প্রহর অর্থাৎ একদিন এক রাত, ২৪ প্রহর অর্থাৎ দুইদিন দুই রাত হরিনাম হতো। একটা ভক্তি রসের স্রোত বয়ে যেতো।

বৈঠকি আড্ডা
দেখতাম আমার বাবা কাশীনাথ চ্যাটার্জী, তবলজি শ্যাম রায় সহ এক ঝাঁক বাজিয়ে বসে পড়ে চলতো উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর। প্রথমে হতো রাগ। গায়ক ও বাদকের মধ্যে যেন যুদ্ধ চলতো, কে কাকে ছাপিয়ে যায়। তার পর আস্তে আস্তে লঘু সঙ্গীতের দিকে এগোতো। সেখানে সব গান চলতো, রাগ-রাগিনী, ঠুমরী, গজল, ভজন, টপ্পা, ঝুমুর, ধামার ধুযমালী, দাদরা, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি। সব চলতো। কখনও ভাত খাবার সময় পার হয়ে যেতো, খেয়াল থাকতো না।
কিছু নমুনা-
বন্দিশ, “ক্যায় সে ঘর যাঁও লঙ্গর বা, শুন পাবেগী শাশ ননদীয়া”
দাদরা
“শবরীয়ারে তাহে কাহে ”
ঠুমরী
“বাজু বন্ধ খুলু খুলু যাঁও”
তবে একটা মজার ব্যাপার থাকতো। যখনই একঘেয়েমি আসতো তখনই শিল্পী একটা ব্যাঙ্গাত্মক খেয়াল ধরতেন।
যেমন, আমার বাবা গাইতেন,
“আমার খিদে পেয়েছে
সকাল থেকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে
নাড়ি ভুঁড়ি শুকিয়ে গেছে
আমার খিদে পেয়েছে”
আমার জ্যাঠা ভোলানাথ চ্যাটার্জী গাইতেন
“যত সব ন্যাতা নেত্রী
চাল ভাজা নিয়ে কাড়া কাড়ি”
একজন শিল্পী গেয়েছিলেন,
‘‘দাদু পাকা পেয়ারা খায়
দিদিমা ডাল পানে চায়”
আমার দাদা রমনী মোহন চ্যাটার্জী গাইতেন,
“কচু বনে হেগে গেল কালো কুকুরে”
সব পুরো খেয়াল হতো, আর এটা ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

পৌষ ডাকা
এটা হলো সাংসারিক জীবনের হিসাব বুঝে নিয়ে লক্ষ্মীকে আহ্বানের বিশেষ ঘোষণা। পৌষ মাসের সংক্রান্তিতে বাড়ির সব জিনিস সঠিক স্থানে রাখতে হয়। অর্থাৎ, সম্পদের হিসাব হয়। তার পর সেগুলির উপর খড় দিয়ে পাকানো বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হয়। যাতে বস্তু যে ঠিক আছে সেটা বোঝায়। তার পর রাতে ঠিক শোওয়ার আগে হয় পৌষ ডাকা মানে পৌষালী ধান ঘরে তুলে রাত্রি দেবীর সাথে লক্ষ্মীর আরাধনা। পৌষ ডাকা হয়ে গেলে আর কেউ বাড়ির বাইরে বের হয় না।
ঠাকুরের স্থানে, তুলসী মন্দিরে, বাইরের দরজায় এবং ঘরের দরজায় দরজায় গোবরের তিনটি ডিবি করে তা সরিষা ফুল দিয়ে পুজো করে, মন্ত্র বলতে হয় সুর করে খাঁটি বাঙলায়। গ্রাম্য জীবনের চাওয়া পাওয়া নিয়ে শ্লোক বলা।
নমুনা- “এসো পোষ যেয়ো না
জন্ম জন্ম ছেড়ো না
আঁধারে হাঁদার পৌষ
বড়ো ঘরের মেঝেয় বস।”
“পোষ মাস লক্ষী মাস না যেও ছাড়িয়ে ,
ছেলে পিলে ভাত দেবো কাঞ্চন ভরিয়ে।””
সেই সুরের মুগ্ধতা আজও বাংলার আকাশে বাতাসে প্রবাহমান।

পাঁচালি পড়া
যে সুরের কথা না বললেই নয় সেটা হল, মা ঠাকুমার পয়ার ছন্দে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়া। প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বসনে ঠাকুরের সামনে বসে চলে পাঁচালি পাঠ।
“শুনুন শুনুন মহাশয় শুনুন দিয়া মন, কহিব অপূর্ব কথা,না যায় বর্ণন”
সন্ধায় একই ভাবে চলে কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ।
“শতবার সুবর্ণ গো কটি কন্যা দান তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান।”
যেন এক আধ্যাত্মিক আলো আঁধারিতে পড়ে যেতাম।

নামতার মুগ্ধতা
এখনও যখন প্রাইমারি স্কুলের পাশ দিয়ে যাই তখন, কখন যে ছেলে বেলায় ফিরে যাই মনেই থাকে না। সেই সুরের মুগ্ধতায় আবার স্কুলের দিকে চাই। সেই দ্বিতীয়ার্ধের শেষে সকলে এক সাথে দাঁড়িয়ে সুর করে বলতাম, এক একে এক। এক দুই দুই। সে স্কুল নেই সে সুর ও আর বাজে না। শৈশবটাই হারিয়ে ফেলেছে সবাই।

ভাটিয়ালি সুর
এ সুর এক অন্তরের সুর, মাঝি মল্লার সুর, বাংলার সুর।
“আমার নাম কালাচাঁদ মাঝি
আমি এপার ওপার সব পারে থাকি।””
এ কথা কারওর নয়, এ কথা বাংলার, এ সুর বাংলার মানুষের সুর।

পট দেখিয়ে ভিক্ষা করা
আমরা ছোট বেলায় দেখতাম, সময়টা সাত এর দশক। কয়েক জন লোক বন্যা দুর্গতদের ছবি দেখিয়ে তাদের সকরুণ জীবনের গীতি আলেখ্য শুনিয়ে ভিক্ষা করতো। বাড়ি জিজ্ঞেস করলে বলতো, মেদিনীপুর। এখন দেখি প্রতিবছর মেদিনীপুরে বন্যা হচ্ছে কিন্তু সেই দারিদ্রতা আর নেই। এই সুর হারিয়ে যাওয়াই ভালো, মানুষ বাঁচুক।
যেমন,
“দামোদরের করার গ্রাসে
ভেঙে গেছে ঘর
খাবার নেই প্যাটে দেখো
গায়ে রয়েছে জ্বর।”
শুনে খুব কষ্ট হতো।

মাতালের গান
আমরা ছোট বেলায় দেখতাম প্রতিদিন এক জন লোক মাতাল হয়ে টলতে টলতে যাচ্ছে। একদিন আমার মা বললো, ও দুখু ঠাকুরপো কি ব্যাপার? অমনি সে গান ধরে নিলো, ভাষা তার নিজস্ব, সুরও তার নিজস্ব, একটা বেদনাময় আত্ম দর্শন।
“সময় বড় মন্দ দিদি রে
এ পাড়াতে কেউ আসে না!
যখন ছিলো পাকা বাড়ি
তখন আসতো কতো গাড়ি
এখন এই ভাঙা চালে সাইকেল রিক্সা তা ও আসে না
সময় বড় মন্দ দিদি রে।”
বলেই কাঁদতে লাগলো।
মা বললো সব ঠিক হয়ে যাবে ঠাকুরপো, কেঁদো না।
পরে শুনেছি, নেশার জন্য সে সর্ব্বশান্ত হয়ে গিয়েছে।

রাখালের গান
ছোট বেলায় আমিও রাখালদের সাথে গরু চড়াতে যেতাম। দেখতাম কয়েক জন মিলে দরাজ গলায় এক উদাত্ত স্মৃতি চারণের গান, এ গানের কে লেখক, কে সুরকার জানি না, তবে খুব ভালো বাঁধন ছিলো সে গানে, তাই মনে হয় কোনও ভালো লেখকের লেখা, আমার ও খুব প্রিয় গান সে গান। সে খান যারই হোক সে সুর বাংলার সুর।
“ছোট বেলায় গাছ তলাতে
পুঁতুল খেলার ছলনাতে
আমি কুড়াইতে যাইতাম
দুজনা রে জরিনা
তুই কি আমার আপন ছিলি না
রে জরিনা ,তুই কি আমার আপন ছিলি না।”

পরিশেষে বলি, এখানে যে সব সুরের কথা বললাম সে সুর কারওর একক সম্পত্তি নয়। বাংলার মাটিতে বাংলার মানুষের তৈরি একান্ত আপন এক সুর। সেই সুর আজও কাটেনি। বেজেই চলেছে কোথাও না কোথাও। বাংলার মাটিতে এ সুরের সৃষ্টি হৃদয়ের অন্তঃপুর থেকে। তাই তো যখন শারদীয়া মায়ের বিসর্জন হয় তখনও আমাদের নিজের মেয়েকে নিজের মাকে হারাবার বেদনা ও ফুটে ওঠে সেই সুরে সুরে ।
যেমন
“ও মা দিগাম্বরী নাচ গো
যেমনি নাচো শিবের কাছে
তেমনি নাচো আমার কাছে
মা গো মা।
এবারো এসেছো ভবে আবার আসিতে হবে মা গো মা””…

(বিষয় বা মতামত একেবারেই লেখকের ব্যক্তিগত। তার দায় দুর্গাপুর দর্পণ কর্তৃপক্ষের নয়।)



Durgapur Darpan

খবর তো আছেই। সেই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। Durgapur Darpan আপনার নিজের মঞ্চ। যোগাযোগ- ই-মেইল- durgapurdarpan@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: