ফের কলকাতার রাজপথে আন্দোলনে উস্থি, মিলল আশ্বাস

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করে রাখুন বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য।

দুর্গাপুর দর্পণ, কলকাতাঃ প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামোয় নানাবিধ বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করার দাবিতে ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে কলকাতার রাজপথে মিছিল করেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষকেরা। কমিশনার, স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে গিয়ে এদিন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের সমস্ত দাবি-দাওয়া, অভাব-অভিযোগের কথা বলেন। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সহ আমাদের বক্তব্য জানানো হয় কমিশনারকে। উনি শুনে আমাদের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হয়েছেন।”

দেখুন ভিডিও

ভাস্করবাবু আরও বলেন, “আমরা অনন্তকাল অপেক্ষা করতে পারব না। আমরা দশদিন অপেক্ষা করব। তার মধ্যে যদি ফল না পাই, তাই আপনারা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন যে আমাদের আবার পথে নামতে হবে। সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া দরকার যে কোনও রকম সময় কেনার ফন্দি যদি সরকার করে থাকে, আমরা তাতে ভুলছি না। যা হওয়ার ভোটের আগে হতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সরকার যদি তাঁদের কথা রাখে তাহলে সংগঠন সরকারের পাশে থাকবে। কিন্তু যদি তা না করে তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু করার তা করা হবে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রতি তাঁর বার্তা, অর্ডার বের করে রাজ্য সরকারের উপরে চাপ তৈরি করা হোক। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমাধান করা হবে, এই প্রতিশ্রুতির প্রতি ভরসা নেই তাঁদের।

শিক্ষক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করতে ও অন্যায়ভাবে বদলি হওয়া শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ওয়াই চ্যানেলে টানা অনশন করেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। ২৬ জুলাই সরকারি নির্দেশনামা (জিও) প্রকাশিত হয়। অভিযোগ, এতদিন কার চলে আসা নিয়ম মানা হয়নি। সাধারণ নিয়মে বর্ধিত বেতন চালু হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু তা চালু করা হয় ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে। এর ফলে নতুন শিক্ষকদের সঙ্গে পুরানো শিক্ষকদের বেতনের বৈষম্য তৈরী হয়।

ওই সরকারি নির্দেশনামা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসের আগে যাঁরা ১৮ বছর শিক্ষকতা পেরিয়ে এসেছেন তাঁদের গ্রেড পে আজীবন ৩৬০০ টাকা থেকে যাবে। কোনও দিন বাড়বে না। আগষ্ট থেকে বা তার পরে যাঁরা ১৮ বছর অতিক্রম করবেন তাঁদের গ্রেড পে ৩৯০০ টাকা করা হয়। অর্থাৎ, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যিনি শিক্ষকতা শুরু করেছেন তাঁর যা গ্রেড পে, ২০১৭ সালে যিনি যোগ দিয়েছেন, দু’জনেরই গ্রেড পে এক। আবার, মাদ্রাসা বোর্ড ও রাজ্য সরকারের সাধারণ বোর্ডের প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যেও বেতনক্রমে বৈষম্য রয়েছে। শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, জিও প্রকাশিত হলে একটা ক্লারিফিকেশন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তাও দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে বিস্তর গন্ডগোলের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের।

অবিলম্বে জিও-র সঠিক ক্লারিফিকেশন প্রকাশ করা, বেতন বৈষম্য দূর করা, ২০২০ সালের আগে যাঁরা প্রাথমিক শিক্ষকতায় ১৮ বছর পেরিয়ে এসেছেন তাঁদের বেতনের সঠিক মূল‍্যায়ন, প্রধান শিক্ষকদের বেতনে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট, শিক্ষকদের ট্রান্সফারে দূরত্বকে গুরুত্ব দেওয়া, চাকরিরত শিক্ষকদের NIOS থেকে NC সমস্যা এবং B.Ed সহ ছয় মাসের ট্রেনিং সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে বহু ডেপুটেশন দেওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে জানান সংগঠনের পদাধিকারিরা।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের নেতৃত্বে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার শিক্ষকেরা কলকাতায় গিয়ে প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ধর্মতলার শহীদ মিনার পর্যন্ত ধিক্কার মিছিলের আয়োজন করা হয়। কমিশনার, স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে সংগঠনের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডেকে পাঠানো হয়। আলোচনা শেষে রাজ্য সম্পাদক ভাস্করবাবু উপস্থিত শিক্ষকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, কমিশনার প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে আমাদের কথা শুনেছেন। এ-বিষয়ে বিশেষ ফাইল তৈরি করে তিনি তা সরকারের নির্দিষ্ট দফতরে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। সন্তোষজনক ফল না পেলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।

তিনি আরও বলেন, “নানা পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, লকডাউনের সময় শিশুস্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। শিশুদের সঠিক পুষ্টির ব্যবস্থা করা এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে কমিশনারকে। তিনি সরকারের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

Durgapur Darpan

খবর তো আছেই। সেই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। Durgapur Darpan আপনার নিজের মঞ্চ। যোগাযোগ- ই-মেইল- durgapurdarpan@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.