স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড: সামান্য সংশয়

এখানে ক্লিক করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন নিয়মিত আপডেট পেতে

 

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড: সামান্য সংশয়

Kaji Nijamuddin

কাজী নিজামউদ্দীন। প্রধান শিক্ষক। বিজড়া হাইস্কুল।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড একটি নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মাধ্যমিক স্তর থেকে রিসার্চ স্কলার, পেশাদারী শিক্ষা এমনকি ইউপিএসসি বা ডব্লিউবিসিএস ট্রেনিং নেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগে রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য জাতীয় ব্যাঙ্কগুলি থেকে কোনো বাড়তি শর্ত ছাড়াই ছাত্রছাত্রীদেরকে ঋণ দেওয়া হবে। চল্লিশ বছর বয়স এর নীচে আবেদন করা যাাবে। চার লাখ থেকে দশ লাখ পর্যন্ত ঋণ মঞ্জুর হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফিজ, হোস্টেল, ল্যাপটপ, বই, কোচিং সেন্টারের ফিজ সবই এই লোন থেকে পাওয়া যাবে।

এখন একটি প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে মনে। এই ক্রেডিট কার্ডের জন্য সরকারি ভালো স্কুলের ছাত্র ঘাটতি হবে। লোন নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা রামকৃষ্ণ মিশন, আল আমীন মিশন বা ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি বিদ্যালয় ও বেসরকারি কলেজে পড়তে চলে যাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আগামী দিনের অস্তিত্ব সংকটজনক হবে। সুতরাং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে হলে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও জরুরী। তবেই ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে।

আমাদের বিদ্যালয়ের একটি আদিবাসী মেয়ে শর্মিলা সোরেন এবছর কনজারভেশন বায়োলজিতে এমএসসি পাশ করেছে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার কোর্স ফিজ বছরে চল্লিশ হাজার গবেষণার জন্য। সে যদি এই ক্রেডিট কার্ড পায় উপকৃত হবে। এরকম অনেক গরীব মেয়ে নার্সিং বা প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হতে পারলে উপকৃত হবে। তবে ঋণ দান সহজ হলেই ভালো। আর ছাত্রছাত্রীরা এটি শোধ করুক তাদের শিক্ষা শেষে তবেই এই প্রকল্পটি সার্থক রূপ পাবে।

তবে আমাদের দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। এই ক্রেডিট কার্ড যেন শিক্ষায় বেসরকারীকরণকে আরও একধাপ এগিয়ে না দেয়! দুর্গাপুর আসানসোল সহ সারা পশ্চিমবঙ্গে অনেক ভালো সরকারি বিদ্যালয় সুনামের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ পরিচালনা করে। নামী শিক্ষক শিক্ষিকারাও আছেন। ক্রেডিট কার্ড এর সাহায্যে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী আবাসিক বিদ্যালয়ে চলে যেতে উদ্যত হবে। অবশ্য ছাত্রছাত্রীদের অনেকের উপকার হবে। এদের অনর্থক টিউশনের জন্য দৌড়াতে হবে না। তবে কিছু বাণিজ্যিক সর্বভারতীয় কোচিং সেন্টার এ শহরে মালামাল হয়ে যাবে। সরকারি স্কুলের আগামীকাল কি হবে এ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ থেকেই যাচ্ছে। সরকারি স্কুলে শিক্ষক হবেন বলে যারা স্বপ্ন দেখে জেনারেল এডুকেশনের পথ বেছে নিয়েছে তাদের ভবিষ্যতের কথাও ভাবা জরুরি।

(বিষয় বা মতামত একেবারেই লেখকের ব্যক্তিগত। তার দায় দুর্গাপুর দর্পণ কর্তৃপক্ষের নয়।)

দুর্গাপুর দর্পণ- যোগাযোগ- 9434312482



Durgapur Darpan

খবর তো আছেই। সেই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রান্না সহ আরও নানা কিছু। Durgapur Darpan আপনার নিজের মঞ্চ। যোগাযোগ- ই-মেইল- durgapurdarpan@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: