WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

স্বাভাবিক জীবনের পথে ৬৩ বছরের মহিলা

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৯ আগস্ট: দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা ও পঙ্গুত্ব কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার আলো দেখলেন ৬৩ বছর বয়সী এক মহিলা। ডান দিকের ফিমারের নেক ফ্র্যাকচার। তার জেরে কার্যত থমকে গিয়েছিল স্বাভাবিক জীবন। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, প্রতিদিনের সাধারণ কাজকর্মও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। সম্প্রতি পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে এক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

পূর্ব ভারতে এই প্রথমবার ‘এমআইএস মিনি-পোস্টেরিয়র আনসিমেন্টেড টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট’ নামক সর্বাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করে এই সাফল্য অর্জন করলেন চিকিৎসকেরা। এই বিশেষ অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন প্রখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ অর্ঘ্য কুন্ডু চৌধুরী (এমএস, এমসিএইচ – এইমস)। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই উন্নত পদ্ধতি প্রথাগত অস্ত্রোপচারের চেয়ে বহুগুণে কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী।

চিকিৎসকদের মতে, ফিমার হাড়ের পুরোনো চোট সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে রোগী সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই এই ধরনের ক্ষেত্রে হিপের কার্যকারিতা ফিরিয়ে এনে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই অস্ত্রোপচারে ব্যবহার করা হয়েছে মিনি-পোস্টেরিয়র মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি। চিকিৎসকদের বক্তব্য, এই নতুন পদ্ধতিতে শরীরের চারপাশের নরম টিস্যু বা পেশির ক্ষতি না করে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, সিমেন্টবিহীন হিপ ইমপ্লান্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইমপ্লান্টকে স্থিতিশীল হতে সাহায্য করে। দুর্গাপুরের মতো শহরে এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাপদ্ধতির সফল প্রয়োগ সমগ্র পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্যসেবায় এক বড় মাইলফলক হিসাবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।

আরও পড়ুন- জটিল গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: মিশন হাসপাতালে সফল রোবোটিক হিস্টেরেক্টমি

অস্ত্রোপচার ছাড়াই জটিল হৃদরোগের উপশম, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত দুর্গাপুরে