দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৯ সেপ্টেম্বর: ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্লাসে সূত্র, অঙ্ক, প্রযুক্তি আর পরীক্ষার প্রস্তুতি তো চলেই। কিন্তু পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে গেলে আরও কিছু শেখা দরকার—কী ভাবে কথা বলতে হয়, কী ভাবে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হয়, কী ভাবে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়। এমনকি, ভিন্ন পরিবেশ ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করার সময় কোন আচরণটি উপযুক্ত, সেটিও।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অডিটোরিয়ামে বসে সেই ‘অন্য পাঠ’-এর কথাই শুনছিলেন এক দল পড়ুয়া। আইআইটি রুরকির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. বিনোদ মিশ্র তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন পেশাগত জীবনে ‘সফট স্কিল’-এর গুরুত্ব নিয়ে। কলেজের দুলাল মিত্র অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘পেশাগত জগতে সফট স্কিল ও এর গুরুত্ব’। প্রায় দু’ঘণ্টার আলোচনায় উঠে এল যোগাযোগ দক্ষতা, পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি, পেশাদার আচরণ, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ইতিবাচক মানসিকতার মতো বিষয়।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়াদের কাছে প্রযুক্তিগত জ্ঞান যে মূল ভিত্তি, তা মানছেন অধ্যাপক মিশ্রও। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, কর্মজীবনে সেই জ্ঞানকে কী ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রথম মুহূর্ত থেকে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা—প্রতিটি স্তরেই নিজের কথা বলার ধরন, আচরণ এবং যোগাযোগের ক্ষমতা প্রভাব ফেলে। তাঁর কথায়, “সফট স্কিল হল আচরণগত দক্ষতা। আপনার কণ্ঠস্বর, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং আপনার আচরণ আপনার পেশাগত পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।”
পেশাগত দক্ষতার এই পাঠের সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন পড়ার অভ্যাসকেও। নিয়মিত বই এবং সংবাদপত্র পড়ার পরামর্শ দেন পড়ুয়াদের। বিশেষ করে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় পড়লে শুধু সমসাময়িক ঘটনাবলি সম্পর্কে ধারণাই তৈরি হয় না, নিজের বক্তব্য সাজানো এবং যুক্তি দিয়ে কথা বলার অভ্যাসও তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার প্রসঙ্গে আসে সাংস্কৃতিক সচেতনতার কথা। ভিন্ন সংস্কৃতি, অভ্যাস ও কাজের পরিবেশকে বুঝতে পারা পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ—পড়ুয়াদের সামনে সেই দিকটি তুলে ধরেন অধ্যাপক মিশ্র। তবে কথার মধ্যেই থেমে থাকেননি তিনি। পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য NPTEL-এর বিভিন্ন কোর্সের কথাও পড়ুয়াদের জানান। সফট স্কিল, পাবলিক স্পিকিং এবং কমিউনিকেটিভ ইংলিশের মতো বিষয় নিয়ে তাঁর NPTEL কোর্সগুলিতে বিনামূল্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন- IoT ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম বায়ুদূষণ মাপার পাঠ দুর্গাপুরে
এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে পড়ুয়াদের জন্য তৈরি হল আরও একটি নতুন সুযোগ। ‘বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস’ বিভাগের অধীনে পথ চলা শুরু করল পড়ুয়াদের দু’টি নতুন ক্লাব—‘ইলকুয়েন্স সোসাইটি’ এবং ‘সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপটিটিউড ক্লাব’। নামেই যেন তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। ‘ইলকুয়েন্স সোসাইটি’ পড়ুয়াদের কথা বলা, যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর জায়গা তৈরি করবে। আর ‘সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপটিটিউড ক্লাব’ জোর দেবে গাণিতিক যুক্তি, সমস্যা সমাধান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায়। অর্থাৎ, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠের পাশাপাশি নিজেকে প্রকাশ করার এবং ভাবার অভ্যাসও তৈরি করার চেষ্টা।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মিশ্রকে সংবর্ধনা জানান BCREC-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম. হোসেন। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরেও অবশ্য হল ফাঁকা হয়নি। বাইরে তখন অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। আর ভিতরে পড়ুয়ারা প্রশ্ন করে চলেছেন একের পর এক। প্রায় ৪০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি এবং পেশাগত উন্নয়নের নানা দিক। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


