পশ্চিম বর্ধমানে প্রভাব বাড়াচ্ছে সঙ্ঘ প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন

Advertisement

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শিক্ষাঙ্গনেও বাড়ছে সঙ্ঘ প্রভাবিত সংগঠনগুলির সক্রিয়তা। সেই আবহেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে আরএসএস প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম বা ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’ (বিদ্যালয় শিক্ষা)।

রবিবার দুর্গাপুরের সগরভাঙা হাই স্কুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সম্মেলন ও পরিচয় পর্বের আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪০০ জন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সহ-সভাপতি শান্তনু মুখার্জী, রাজ্য সম্পাদক কৌশিক সরকার, জেলা সভাপতি মহেশ পাঠক, জেলা সম্পাদক চঞ্চল রুইদাস, আরএসএস-এর মধ্যবঙ্গ প্রান্ত সহ কার্যবাহ অচ্যুত হাজরা এবং বিশিষ্ট শিক্ষক তপন মন্ডল।

জেলা সম্পাদক চঞ্চল রুইদাস জানান, এতদিন জেলাস্তরে ও কিছু চক্রভিত্তিক কমিটি থাকলেও এবার ব্লক ও ক্লাস্টার স্তরে সংগঠন গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তার আগে জোর দেওয়া হচ্ছে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে। সংগঠনের দাবি, আগে পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় ২০০ শিক্ষক সদস্য ছিলেন। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০০-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার প্রতিটি ব্লকে সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত পৃথক টিমকে। প্রতিটি ব্লকে ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষক এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি, বিগত শাসক দলের 'দাগি শিক্ষক'-দের সদস্যপদ দেওয়া হবে না বলেও বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এবিআরএসএম-এর দাবি, তাদের মূল লক্ষ্য জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করা, পাঠ্যক্রমে মূল্যবোধ ও নীতি শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, বদলি নীতির সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো চালু করা। সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক ও বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য চিরঞ্জিত ধীবর বলেন, “এই জেলায় রাষ্ট্রবাদী শিক্ষক সংগঠনের শিকড় গড়ে তোলা সহজ ছিল না। বহু বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বহু শিক্ষক নতুন আশায় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন।”

Advertisement

তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষা ও শিক্ষক স্বার্থে অতীতে একাধিক আন্দোলন সংগঠিত করা হয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের আশা করছেন শিক্ষক সমাজের একাংশ।

অন্যদিকে, প্রবীণ শিক্ষক তপন মন্ডল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই সংগঠন কোনও রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন হিসেবে কাজ করবে না। তবে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমান সরকারকে পথ দেখানোর কাজ করবে।” তাঁর দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তিনি বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ গড়ে ওঠে।”

এদিকে, রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের শিক্ষক সংগঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির টিচার্স সেল নাকি এবিআরএসএম— কোনটি মূল সংগঠন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিজেপির নিজস্ব কোনও শিক্ষক ইউনিয়ন নেই। অন্যদিকে সঙ্ঘ সূত্রে জানানো হয়েছে, সংঘ পরিবারের শিক্ষকদের জন্য একমাত্র স্বীকৃত ও রেজিস্টার্ড সংগঠন হল এবিআরএসএম।

(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

Advertisement

Related Posts