
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৩ আগস্ট: দীর্ঘদিন ধরে দুই হাঁটুর যন্ত্রণা। হাঁটাচলায় সমস্যা, তার সঙ্গে হাঁটুর গঠনেও গুরুতর বিকৃতি। এই অবস্থায় একসঙ্গে দুই হাঁটুর চিকিৎসা করানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্যে এক সিটিংয়েই দুই হাঁটুর প্রতিস্থাপন করা হল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে। চিকিৎসার পর প্রথম দিনেই দাঁড়িয়ে হাঁটার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রোগী দীর্ঘদিন ধরে দুই হাঁটুর ব্যথায় ভুগছিলেন। তাঁর দুই হাঁটুতেই ছিল গ্রেড ৩ ভ্যারাস ডিফরমিটি। অর্থাৎ হাঁটুর স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্টে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল, যার ফলে দৈনন্দিন চলাফেরাতেও তৈরি হচ্ছিল সমস্যা।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোগীর দুই হাঁটুতেই একসঙ্গে ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন ডা. সন্তু সরকারের তত্ত্বাবধানে MAKO 2.0 রোবোটিক-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়।
এই পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম 3D ম্যাপিংয়ের সাহায্যে হাঁটুর গঠন ও অ্যালাইনমেন্ট আরও নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকে। তাছাড়া, রোগীর শারীরিক গঠন ও প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা নির্দিষ্ট করা সম্ভব।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, দুই হাঁটুর চিকিৎসার জন্য আলাদা সময়ে দুটি অস্ত্রোপচার করতে হয়নি। এক সিটিংয়েই উভয় হাঁটুর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ফলে একবার অ্যানেস্থেসিয়া, একবার হাসপাতাল-পর্ব এবং একবার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দুই হাঁটুর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনেই তাঁকে ভর দিয়ে দাঁড়ানো এবং হাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের হাঁটুর সমস্যায় ভোগার পর দ্রুত চলাফেরা করতে পারা তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির বিষয়।
আরও পড়ুন- হার্ট অ্যাটাকের পর রোবোটিক বাইপাস, মাত্র ৩ দিনেই সুস্থ দুর্গাপুরের তরুণ
জটিল গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: মিশন হাসপাতালে সফল রোবোটিক হিস্টেরেক্টমি
তবে, একই সঙ্গে দুই হাঁটুর অস্ত্রোপচার প্রতিটি রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, বয়স, হাঁটুর সমস্যা এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয় বিবেচনা করেই এই ধরনের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

