WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now
চিকিৎসক ও রোগী

বুক না কেটেই হার্টের জটিল অস্ত্রোপচার!

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২২ আগস্ট: বয়স খুব বেশি নয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে প্রতিদিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন শুভজিৎ সরকার। আচমকাই হার্ট অ্যাটাক। পরীক্ষার পর জানা গেল, হৃদপিণ্ডে রক্ত পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ধমনীতে রয়েছে বড়সড় ব্লকেজ। পরিস্থিতি কঠিন হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। আর সেই লক্ষ্যেই প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির পরিবর্তে বেছে নেওয়া হল রোবোটিক-সহায়তা প্রাপ্ত বাইপাস সার্জারি।

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে সম্প্রতি এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন শুভজিৎ।

শুভজিৎ পেশায় একজন ডেলিভারি পার্টনার। তাঁর কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম। ফলে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরিবর্তে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ছিল চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীগুলির অন্যতম LAD-তে উল্লেখযোগ্য ব্লকেজ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মিশন হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সিটিভিএস ডা. শ্রীকান্ত রোবোটিক-সহায়ক বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন।

এই ধরনের অস্ত্রোপচারে রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্যে শরীরের ভেতরের অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিবর্ধিত ছবি দেখা যায়। ফলে সূক্ষ্ম ও নির্ভুলভাবে অস্ত্রোপচার করার সুযোগ তৈরি হয়। প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির তুলনায় এতে বুকের হাড় কাটার প্রয়োজন হয় না। ছোট আকারের incision-এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচার হওয়ায় শরীরের উপর ধকলও তুলনামূলকভাবে কম বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাছাড়া, কম কাটাছেঁড়া হওয়ায় সংক্রমণের ভয়ও কম থাকে।

আরও পড়ুন- জটিল গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: মিশন হাসপাতালে সফল রোবোটিক হিস্টেরেক্টমি

অস্ত্রোপচার ছাড়াই জটিল হৃদরোগের উপশম, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত দুর্গাপুরে

শুভজিতের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের ফলাফল ছিল সন্তোষজনক। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তিনি উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটাচলা শুরু করেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের ১২ দিনের মধ্যে তাঁর আর কোনও ব্যথা বা উপসর্গ ছিল না এবং তিনি নিজের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতার ৯০ শতাংশেরও বেশি ফিরে পান। চিকিৎসকদের অনুমতি পাওয়ার পরে ফের কাজে যোগ দেন শুভজিৎ।

ডা. শ্রীকান্ত বলেন, “রোবোটিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ হার্ট সার্জারির মূল লক্ষ্য শুধু রোগীর জীবন রক্ষা করা নয়, যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া। বিশেষ করে যাঁদের জীবিকা শারীরিক পরিশ্রমের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার গুরুত্ব আরও বেশি।”

শুভজিতের চিকিৎসার এই সাফল্য দুর্গাপুরে আধুনিক হৃদ্‌রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথাও সামনে আনল। তবে যে কেউ চাইলেই তাঁর রোবোটিক অস্ত্রোপচার নাও করা হতে পারে। কারণ, প্রতিটি রোগীর শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই কাকে কোন ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করে।