দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৫ নভেম্বর: শুধু নতুন ভাবনা তৈরি করলেই হবে না, সেই ভাবনাকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে সফল ও টেকসই ব্যবসায় পরিণত করা যায়, সেই দিশা দেখাল দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় কলেজ অফ ফার্মেসি অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস (BCRCP)। বুধবার, ৪ নভেম্বর কলেজের এম. এল. শ্রফ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হল উদ্যোগপতি মানসিকতা, উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সেমিনার ‘Brain to Brand – Transforming Ideas into Sustainable Business’।
কলেজের Entrepreneurship Cell (E-Cell) এবং Intellectual Property Rights (IPR) Cell-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, উদ্যোগপতি হওয়ার মানসিকতা এবং নতুন ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার আগ্রহ তৈরি করা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Subhami Biopharma (OPC) Pvt. Ltd.-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর ড. শুভলক্ষ্মী ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন BCRCP-র অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সামন্ত, E-Cell-এর চেয়ারম্যান ড. বিশ্বজিৎ বসু, IPR Cell-এর নোডাল অফিসার ড. অমিত কুমার হালদার এবং কলেজের রেজিস্ট্রার সাগর সেনগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পড়ুয়ারা।
সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল BCRCP এবং Subhami Biopharma (OPC) Pvt. Ltd.-এর মধ্যে সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাগত ভাষণে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সামন্ত পড়ুয়াদের ছাত্রজীবনে দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবর্তিত শিল্প ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শুধু চাকরির সন্ধান না করে ভবিষ্যতে নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার মানসিকতা গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি। সমাজ ও পেশাগত ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
মূল বক্তব্যে ড. শুভলক্ষ্মী ঘোষ উদ্ভাবনী ভাবনাকে বাস্তব ব্যবসায়িক সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, উদ্যোগপতি হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি প্রয়োজন নিষ্ঠা, ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম। তাঁর মতে, শুধু নতুন কিছু উদ্ভাবন করাই যথেষ্ট নয়, সেই উদ্ভাবনের বাস্তব বাজারমূল্য এবং মানুষের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতাও থাকা জরুরি। গবেষণার ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সেই গবেষণাকে এমন বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যেতে হবে, যা ভবিষ্যতে অর্থবহ অবদান রাখতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যে উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উদ্যোগপতি হওয়ার মধ্যে যোগসূত্রের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
সেমিনারের পাশাপাশি পড়ুয়াদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা তুলে ধরার সুযোগ করে দিতে আয়োজন করা হয়েছিল পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘One Health, Infinite Possibilities; Entrepreneurship for a Green Future’। স্বাস্থ্য, পরিবেশের স্থায়িত্ব এবং উদ্যোগপতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের সৃজনশীল ভাবনা ও নতুন ধারণা তুলে ধরেন BCRCP-র পড়ুয়ারা। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন রাহুল দাস ও বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দ্বিতীয় স্থান পান সোভন সাহা, অদ্রিজা ঘোষ ও শুভমিতা চাঁদ। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সাগ্নিক ঘোষ, ময়ূখ কোলে ও সৌম্যজিৎ সাহা।
প্রচলিত পাঠ্যক্রমের বাইরে গিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে গবেষণা, মেধাস্বত্ব সম্পর্কে সচেতনতা, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং উদ্যোগপতি হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার উপর জোর দিচ্ছে ড. বি. সি. রায় কলেজ অফ ফার্মেসি অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস। ‘Brain to Brand’ শীর্ষক এই সেমিনার সেই লক্ষ্য পূরণেরই একটি উদ্যোগ।
আরও পড়ুন- ‘ইয়ারি’: বন্ধুত্বের ছোঁয়ায় র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাসের অঙ্গীকার ড. বি. সি. রায় একাডেমিতে


