
শুধু নম্বর নয়, দরকার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের Dr. B. C. Roy Engineering College-এ অনুষ্ঠিত হলো ‘HR Conclave 2026’। গত ২২ মে কলেজের ‘দুলাল মিত্র অডিটোরিয়াম’-এ আয়োজিত এই বিশেষ কনক্লেভে দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংস্থার মানবসম্পদ (HR) বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। শিল্পক্ষেত্রের বর্তমান চাহিদা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করে তুলতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই কনক্লেভে উপস্থিত ছিলেন TCS-এর Academic Alliance Group (India)-এর আঞ্চলিক প্রধান সৌভিক দাস, Cognizant-এর Campus Recruitment & Engagements বিভাগের ম্যানেজার অভীক চক্রবর্তী, KPMG-এর Talent Acquisition বিভাগের Associate Director দেবস্মিতা সরকার, INFRA.MARKETING-এর HRBP (North & East India)-এর Regional Manager অভিষেক রায়, RDC Concrete-এর Regional Business Head ধর্মেন্দ্র কুমার জয়সওয়াল এবং Ultratech Cement-এর Regional HR Head শুভঙ্কর ঘোষ।
বিশিষ্ট অতিথিদের সংবর্ধনা জানান BCREC সোসাইটির সভাপতি ডা. সত্যজিৎ বসু, সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য, কোষাধ্যক্ষ জার্নেল সিং, সহ-সভাপতি মিতা মিত্র, সহ-সম্পাদক রীতা সিং, সোসাইটির সদস্য অভিষেক মুখার্জি এবং কলেজের অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার।

প্রায় পাঁচশো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় শিল্প বিশেষজ্ঞরা বর্তমান চাকরিক্ষেত্রে কোন ধরনের দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর জ্ঞান নয়, বরং যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, আন্তঃবিষয়ক জ্ঞান এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহই একজন শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে।
স্বাগত ভাষণে ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার বলেন, “শিল্পসংস্থাগুলি এখন এমন প্রার্থী খুঁজছে, যারা পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম। এই কনক্লেভ শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে তাঁরা ইন্টারভিউয়ের জন্য আরও উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে পারবেন।”
অন্যদিকে, ডা. সত্যজিৎ বসু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষার্থীরাই উন্নয়নের ইঞ্জিন। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে তাঁদের। তা না হলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। পেশাগত জীবনে সাফল্যের জন্য দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া HR বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পেশাগত জীবনে শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষা সীমিত ভূমিকা পালন করে। তাঁদের মতে, কর্মজীবনে একাডেমিক শিক্ষার ভূমিকা মাত্র ১৫ শতাংশ। বাকি সাফল্য নির্ভর করে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণ, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, কঠোর পরিশ্রম এবং সহযোগিতামূলক মানসিকতার উপর।
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কলেজের Senior Training & Placement Officer বিপুল চন্দ্র। শিল্প ও শিক্ষার এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বাস্তবমুখী ও প্রস্তুত করে তুলবে বলেই মনে করছেন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিল্প প্রতিনিধিরা।

