
নিরাপদ ক্যাম্পাসের শপথ পড়ুয়াদের
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৬ আগস্ট: ‘ক্যাম্পাস’ শব্দটার সাথে জড়িয়ে থাকে কতশত রঙিন স্বপ্ন! তাই, বাড়ির মায়া কাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আসা তরুণ মুখগুলোর কাছে সেই ক্যাম্পাসের করিডোর যেন নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। সেই দৃঢ় সংকল্পকে সামনে রেখেই গত ২৪ আগস্ট পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকে পালিত হল এক অনন্য কর্মসূচী।
কলেজের এম. এল. শ্রফ অডিটোরিয়ামে ‘একটি নিরাপদ, সম্মানজনক এবং র্যাগিং-মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা’ শীর্ষক সচেতনতা সেমিনার ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল পড়ুয়াদের মধ্যে র্যাগিংয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ, বিধাননগর ফাঁড়ির ইন-চার্জ সৌমেন কুণ্ডু এবং সাব-ইন্সপেক্টর পুলক দাস। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, র্যাগিং কোনও ‘মজা’ বা ‘পরিচিত হওয়ার প্রথা’ নয়—এটি একজন পড়ুয়ার মানসিক শান্তি, মর্যাদা এবং নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে। র্যাগিং কোনও বীরত্ব নয়, বরং সহমর্মিতাই একজন খাঁটি মানুষের পরিচয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ ড. অরিজিৎ কুমার ব্যানার্জি, ড. বি. সি. রায় গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস-এর ক্যাম্পাস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গৌতম চক্রবর্তী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীরা। পাশাপাশি বর্তমান পড়ুয়াদের সঙ্গে সদ্য ভর্তি হওয়া নতুন ব্যাচের পড়ুয়ারাও অংশ নেয় কর্মসূচিতে।

সচেতনতা অনুষ্ঠানের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক দিক ছিল পড়ুয়াদের তৈরি র্যাগিং-বিরোধী পোস্টার প্রদর্শনী। নতুন আর পুরোনো ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্যানভাস জুড়ে এঁকে দিল বন্ধুত্বের রঙ। রং, ছবি, স্লোগান আর নিজেদের ভাবনার মাধ্যমে পড়ুয়ারা তুলে ধরে এমন এক ক্যাম্পাসের স্বপ্ন, যেখানে সিনিয়র-জুনিয়রের সম্পর্কের ভিত্তি হবে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
কোনও পোস্টারে ছিল র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ, আবার কোথাও উঠে এসেছে সহানুভূতি ও মানবিকতার বার্তা। নতুন পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের আপন করে নেওয়া এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও উঠে আসে তাঁদের সৃষ্টিতে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. সাম্য নিয়োগী। সব শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তব্য রাখেন অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের আহ্বায়ক সত্যজিৎ রায়।
আরও পড়ুন: স্বপ্নপূরণের নতুন পথে পা- ‘শুভমস্তু ২০২৬’; ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকে অনন্য আয়োজন
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকে ৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচী


