WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: ছাত্রজীবন শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেখানে জড়িয়ে থাকে বন্ধুত্ব, পরিশ্রম, স্বপ্ন আর নিজেকে গড়ে তোলার অসংখ্য স্মৃতি। গত ৭ জুন সেই স্মৃতিমাখা অধ্যায়েরই এক আবেগঘন সমাপ্তি ঘটল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকে।

২০২৬ সালের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে আয়োজিত হল বিদায়ী অনুষ্ঠান ‘শুভমস্তু ২০২৬ (SUBHAMASTU 2K26)’। ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অন্যতম শাখা ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ছিল আবেগ, শুভেচ্ছা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদের এক সুন্দর মেলবন্ধন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের বিকাশ, স্থিতিশীলতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে একটি গাছে জল দেওয়া হয়। এই প্রতীকী মুহূর্ত যেন সকলের মনেই স্মরণ করিয়ে দেয়— সঠিক পরিচর্যা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়েই একদিন ছোট চারাগাছ পরিণত হয় বিশাল বৃক্ষে। তেমনই আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও দেশের সম্পদ।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সোসাইটির সহকারী সচিব রীতা সিং, সোসাইটির সদস্য ড. অঙ্কিতা মিত্র, অভিষেক মুখার্জি এবং জয়িত্রী শিকদার ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ ড. অরিজিৎ কুমার ব্যানার্জি এবং সহকারী রেজিস্ট্রার শক্তি সরকার।

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ ড. অরিজিৎ কুমার ব্যানার্জি, ড. অঙ্কিতা মিত্র এবং অভিষেক মুখার্জি। তাঁরা শিক্ষার্থীদের জীবনের আগামী পথচলার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে সঙ্গী করে নিজেদের লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব এবং চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করার বার্তা।

প্রকৃতির পাশে থাকার শপথ, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নজর কাড়ল BCREC

শুধু আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন। নাচ, গানসহ একাধিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। বিদায়ী শিক্ষার্থীরাও তাঁদের ছাত্রজীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন। কেউ স্মরণ করেন প্রথম দিনের সংকোচ, কেউ বা বন্ধুত্বের অমূল্য মুহূর্ত। তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানান সেই সব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, যাঁদের দিকনির্দেশনা তাঁদের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং প্লেসমেন্ট অফিসাররাও বিদায়ী পড়ুয়াদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁরা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং দৃঢ় মনোভাব নিয়ে পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করার জন্য উৎসাহিত করেন।

এই অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করা হয় বিশেষ পুরস্কারের মাধ্যমে। অসামান্য শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য ‘ডিপার্টমেন্ট টপার’ হিসেবে সম্মানিত হন:

  • প্রিয়ংশু সাহা — সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • অরিক মুখার্জি — ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • বিল্টু মণ্ডল — কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ
  • সায়ন প্রামাণিক — মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘সেরা শিক্ষার্থী’ (Best Student) পুরস্কারে ভূষিত হন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিল্টু মণ্ডল। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ প্লেসমেন্ট প্যাকেজ অর্জনের জন্য সম্মানিত করা হয় ঋষি রাজ মণ্ডলকে, যিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র।

শেষ লগ্নে যখন বিদায়ের আবহ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে, তখন শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ধরা পড়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন ও অজানার শিহরণ। আর শিক্ষকদের মুখে ফুটে ওঠে গর্বের হাসি। কারণ, প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের সাফল্যই যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সারদা মল্লিকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শুভমস্তু ২০২৬’-এর এই আবেগঘন আয়োজন। তবে বিদায় মানেই শেষ নয়— বরং নতুন স্বপ্ন, নতুন দায়িত্ব এবং নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার সূচনা।