WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

হুঁশিয়ারি, কোয়ার্টার্স দখলের রাজনীতি আর চলবে না

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের এমএএমসি টাউনশিপে সরকারি কোয়ার্টার্স দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল দুর্গাপুরে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বি-ওয়ান এলাকার একটি কোয়ার্টার্সকে ঘিরে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দখলদারির অভিযোগ তুলে শনিবার অভিনব প্রতিবাদে সামিল হল বিজেপি। হাতে মিষ্টির প্যাকেট ও ফুল নিয়ে অভিযুক্তের কাছে কোয়ার্টার্স ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে সমাধান না হলে আরও কড়া কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে ‘ডিম থেরাপি’র হুঁশিয়ারিও দেন বিজেপি নেতারা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা হীরক রায়, যিনি এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর লাভলি রায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। অভিযোগ, তিনি এমএএমসি টাউনশিপের একাধিক কোয়ার্টার্স বেআইনিভাবে দখল করে অর্থের বিনিময়ে অন্যদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন। তেমনই এক মহিলা জানান, কালীগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। তাঁর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাঁকে একটি কোয়ার্টার্সে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এই বিতর্কের সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। বেনাচিতির বাসিন্দা দারা সিংহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বি-ওয়ান এলাকায় এসে দাবি করেন, তাঁর প্রয়াত বাবার নামে বরাদ্দ থাকা কোয়ার্টার্সটি ২০১১ সাল থেকেই দখল করে রাখা হয়েছে। বহুবার আবেদন করেও তিনি নিজের সম্পত্তি ফিরে পাননি। বরং ভয় দেখিয়ে তাঁদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দারা সিংহের বক্তব্য, তাঁর বোনের থাকার জন্য কোয়ার্টার্সটি সংস্কারের কাজ চলছিল। সেই সময়ই জোর করে সেটি দখল করে নেওয়া হয়। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিষয়টি দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনেন। এরপর শনিবার বিজেপি কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে যায়।

আরও পড়ুন: আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে

আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষার দায়িত্ব পেল ‘রাইটস’

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিজেপি কর্মীরা কোয়ার্টার্সের সামনে ফুল ও মিষ্টির প্যাকেট রেখে অভিযুক্তকে শান্তিপূর্ণভাবে কোয়ার্টার্স প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

জেলা বিজেপির ওবিসি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি, বাড়ি ও কোয়ার্টার্স দখলের রাজনীতি চলেছে। এখন সেই সব সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টার্স নিয়ে বেআইনি কারবার চালিয়ে আসছেন। তিনি জানান, আপাতত ‘গান্ধীগিরি’ করা হলেও সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে ‘ডিম থেরাপি’র মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে।

বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের অভিযোগ, শুধু এমএএমসি কোয়ার্টার্স দখল নয়, বিওজিএলের জমি দখল করে অর্থের বিনিময়ে বসতি গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হীরক রায়। তাঁর দাবি, তিনি অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে থাকার জন্য ওই কোয়ার্টার্সটি নিয়েছিলেন মাত্র। ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।