WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

ক্যাশ সেকশন থেকে বীরভানপুর শ্মশানে বদলি

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পুরসভার এক কর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের পর প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করা হল। শুক্রবার পুর কমিশনারের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মী স্বপ্নেন্দু ভৌমিক (ওরফে জয়)-কে বর্তমান ক্যাশ সেকশন থেকে বদলি করে ৪ নম্বর বরোর অধীন বীরভানপুর শ্মশানে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপুরের বাসিন্দা শিবকুমার মণ্ডলকে ঘিরে। একটি বেসরকারি সংস্থায় স্বল্প বেতনের চাকরি করে কোনওরকমে সংসার চালান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশায় বারবার সরকারি দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে তাঁর আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

শিবকুমারের দাবি, প্রতিবার অফিসে আসতে তাঁকে কাজ থেকে ছুটি নিতে হয়েছে। ফলে যেমন রোজগারের ক্ষতি হয়েছে, তেমনই অসুস্থ স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে দফায় দফায় সরকারি অফিসে ঘুরতে হয়েছে। দিনের পর দিন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি দুর্গাপুর পুরসভায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ, সেই সময় পুরসভার কর্মী স্বপ্নেন্দু ভৌমিক তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং আঙুল উঁচিয়ে বলেন, “আমি স্বপ্নেন্দু ভৌমিক, যান যেখানে যা কমপ্লেন করার করুন।”

আরও পড়ুন: আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে

আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষার দায়িত্ব পেল ‘রাইটস’

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগে পুরসভার অন্যান্য কর্মী ও আধিকারিকরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর পুর কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম জানান, কোনও অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ পুরসভায় এলে তাঁদের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে এবং সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোনও কর্মী যেন কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করেন, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

পুরসভা সূত্রের দাবি, অতীতেও স্বপ্নেন্দু ভৌমিকের আচরণ নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর ফের বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পুরসভা স্বপ্নেন্দুকে বীরভানপুর শ্মশানে বদলি করে দিল। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের আশায় নতুন সরকারকে ক্ষমতায় এনেছেন। তাই সরকারি দফতরে মানুষের সঙ্গে কোনও রকম দুর্ব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ”-এর আদর্শে বিশ্বাসী সরকার সাধারণ মানুষের মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।” পুর প্রশাসনের এই পদক্ষেপে অনেকেই আশা করছেন, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুরসভার কর্মীদের সংবেদনশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত হবে।