WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

তিন বছরের মজুরি চুক্তিতে বাড়ছে বেতন-সুবিধা

দুর্গাপুর দর্পণ, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্পঞ্জ আয়রন, ফেরো অ্যালয়, ইন্ডাকশন ফার্নেস ও রোলিং মিল শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি চুক্তি কার্যকর হল। শনিবার রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের উদ্যোগে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে তিন বছরের চুক্তিতে সই হওয়ায় রাজ্যের প্রায় ২০০টি কারখানার দেড় লক্ষেরও বেশি শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার স্বস্তির খবর পেলেন।

শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহের উপস্থিতিতে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প মালিকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল আয়রন অ্যান্ড স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস), সিটু, আইএনটিইউসি-সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শ্রম দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরাও অংশ নেন।

শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, আগের মজুরি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ৩১ মার্চ ২০২৫-এ। এরপর দীর্ঘদিন নতুন চুক্তি না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন শ্রমিকরা। অবশেষে নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ায় সেই জট কাটল। এই চুক্তি ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে প্রত্যেক শ্রমিকের বর্তমান মজুরি মাসে ১,১০০ টাকা বাড়ানো হবে। এরপর দ্বিতীয় বছরে মূল বেতন দৈনিক ১১ টাকা (মাসিক প্রায় ২৮৬ টাকা) এবং তৃতীয় বছরে দৈনিক ১৩ টাকা (মাসিক প্রায় ৩৩৮ টাকা) বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে তিন বছরে মাসিক বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ১,৭২৪ টাকা।

যাঁরা এখনও সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাচ্ছেন না, তাঁদের ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ন্যূনতম মজুরি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বকেয়া অর্থও পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

চুক্তিতে শ্রমিকদের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কর্মীকে নিয়মিত পে-স্লিপ দিতে হবে। যাঁরা এখনও ইপিএফ (EPF) ও ইএসআই (ESI)-এর আওতায় নেই, তাঁদের দ্রুত এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি গ্র্যাচুইটি আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধাও নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া অর্থ ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে শুরু করে ১৫টি সমান মাসিক কিস্তিতে মেটাতে হবে।

আরও পড়ুন: মানবিক উদ্যোগ, ক্যান্সার রোগীদের জন্য চুল দান করলেন দুর্গাপুরের তরুণী

বৃদ্ধদের আশ্রয় গড়তে ১০ কাঠা জমি দান দুর্গাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর

চুক্তিতে কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত করার বিষয়েও কড়া নির্দেশ রয়েছে। কারখানা আইনের নিয়ম মেনে নিরাপদ পানীয় জল, পর্যাপ্ত শৌচাগার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শ্রম আইন ও ক্ষতিপূরণ আইন যথাযথভাবে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প ইউনিটগুলিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় মজদুর সংঘের কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাথ চৌবে বলেন, প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২৯ জুন। দ্বিতীয় বৈঠকেই দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে শিল্প মালিকদের একাংশ চুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল আয়রন অ্যান্ড স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শঙ্করলাল আগরওয়াল বলেন, বর্তমানে শিল্পের বাজার পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। তবুও শ্রমিকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন চুক্তিতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই চুক্তির ফলে শুধু শ্রমিকদের আয়ই বাড়বে না, তাঁদের কর্মজীবনের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশেরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।