দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) দুর্গাপুরের ধুনুরা প্লট এলাকায় হারবাল চকলেটের নামে এক স্কুলছাত্রীকে নেশাজাতীয় বস্তু দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল দুর্গাপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে স্কুলে গিয়েছিল ছাত্রী রিঙ্কি প্রসাদ। অভিযোগ, স্কুল থেকে ফেরার সময় ধুনুরা প্লট এলাকার একটি দোকানে কোল্ড ড্রিঙ্কস কিনতে নামে সে। সেই সময় দোকানে রাখা কিছু চকলেট দেখে রিঙ্কি দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করে সেগুলো কী চকলেট। অভিযোগ, তখন দোকানদার সেগুলোকে ‘হারবাল চকলেট’ বলে জানিয়ে ১৫ টাকার বিনিময়ে একটি চকলেট তার হাতে তুলে দেন।
পরে স্কুলে এসে সেই চকলেটটি নিয়ে শ্রেণীকক্ষে খোলার চেষ্টা করলে বিষয়টি নজরে আসে স্কুল কর্তৃপক্ষের। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, সবুজ রঙের একটি চকলেটের প্যাকেট শ্রেণীকক্ষে খোলা হচ্ছে। এতে সন্দেহ হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং চকলেটটি পরীক্ষা করে দেখেন। তখনই জানা যায়, সেটি সাধারণ হারবাল চকলেট নয়, বরং ভাং দিয়ে তৈরি একটি নেশাজাতীয় বস্তু।
(BCREC & Group of institutions। পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472)
এরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীর অভিভাবককে ফোন করে স্কুলে ডেকে পাঠান এবং পুরো বিষয়টি জানান। রিঙ্কির বাবা যোগেন্দ্র প্রসাদ জানান, “রোজকার মতো সকালে মেয়ে স্কুলে যায়। কিছুক্ষণ পর স্কুল থেকে ফোন আসে এবং আমাকে ডেকে পাঠানো হয়। স্কুলে গিয়ে জানতে পারি, রিঙ্কির কাছে একটি চকলেট পাওয়া গিয়েছে, যা নেশার সামগ্রী দিয়ে তৈরি। রিঙ্কিকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, স্কুল থেকে ফেরার সময় ধুনুরা প্লটে যামিনী স্টোরে নেমেছিল কোল্ড ড্রিঙ্কস কিনতে। তখন সামনে ওই চকলেটগুলি রাখা ছিল। ও জানতে চাইলে দোকানদার বলে এগুলো হারবাল চকলেট এবং খেতে ভালো লাগবে। এরপর ১৫ টাকার বিনিময়ে চকলেটের প্যাকেট দেয়। এখন বিষয়টি সামনে আসতেই দোকানদার ক্ষমা চাইছেন।”
ঘটনার পর অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধুনুরা প্লট এলাকার ওই দোকানে গিয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযোগের মুখে দোকানদার নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্কুলের অধ্যক্ষা দেবযানী বসু বলেন, “সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, সবুজ রঙের একটি চকলেটের প্যাকেট শ্রেণীকক্ষে খোলা হচ্ছে। আমাদের সন্দেহ হওয়ায় অভিভাবককে ডেকে পাঠানো হয়। পরে আমরা দোকানে গিয়ে দেখি, ওই চকলেট খোলা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে। এটা তো হতে পারে না। আমি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। বাচ্চার কিছু হয়ে গেলে কী হতো? বাবা ভাবতেন, বাচ্চা স্কুলে কিছু খেয়ে অসুস্থ হয়েছে। আমরা বুঝতেও পারতাম না কী থেকে কী হয়ে গেল।” (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


