দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার দূরত্ব কমলে পড়ুয়াদের চাকরির সুযোগ যেমন বাড়বে তেমনই সমৃদ্ধ হবে শিল্পও। তাই, বাস্তব পরিস্থিতি চাইছে শিল্পমুখী শিক্ষা। শিক্ষা আর শিল্পের ঘনিষ্ঠতাই সময়ের দাবি। সেকথা মাথায় রেখেই গত তিন বছর ধরে পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (BCREC) ‘অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি মিট’ এর আয়োজন করে আসছে। এর ফলে কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারা নিজেদের শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে যা কোর্স শেষে কর্মক্ষেত্রে কাজে আসবে, সফল কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করবে।
গত ১৩ মার্চ BCREC ক্যাম্পাসের ‘অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হলে তৃতীয় ‘অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি মিট ২০২৬’ এর আয়োজন করা হয়। BCREC এর সহযোগিতায় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং’ (C-DAC) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। বিশিষ্ট অতিথিরা একটি চারাগাছে জল দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। স্বাগত ভাষণ দেন BCREC-এর অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষাজগৎ ও শিল্পজগতের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাগত গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। C-DAC কলকাতার ‘চিফ ইনভেস্টিগেটর’ (প্রকল্প), অসিত কুমার সিং তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাজগৎ ও শিল্পজগতের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বলেন, “শিল্পক্ষেত্র বাজারের চাহিদা সম্পর্কে অবগত থাকে। সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব শিক্ষাগত গবেষণার মাধ্যমে। তাই এই দুই ক্ষেত্রের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।” MAKAUT-এর ‘স্কুল অফ ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-র অধিকর্তা এবং C-DAC কলকাতার প্রাক্তন অধিকর্তা ড. নবরুণ ভট্টাচার্য শিক্ষাগত সহযোগিতার বিষয়ে শিল্পক্ষেত্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
(BCREC & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472)
সম্মেলনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘থ্রি-ডি প্রিন্টিং’ (3D Printing) এবং ‘অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি’। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির যুগপোযোগী সম্ভাবনার উপর আলোকপাত করা হয় সম্মেলনে। NIT দুর্গাপুরের প্রাক্তন অধিকর্তা এবং BCREC-এর উপদেষ্টা ড. অনুপম বসু উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ‘থ্রি-ডি প্রিন্টিং’-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী করে তুলতে ‘ফিনিশিং স্কুল প্রোগ্রাম’-এর গুরুত্বের উপর জোর দেন। MAKAUT-এর প্রাক্তন উপাচার্য এবং বর্তমানে ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সোসাইটি-র মুখ্য উপদেষ্টা ড. সৈকত মৈত্র ‘থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি’-র ইতিহাস, মূলনীতি এবং পরিবেশগত সুফলগুলি বিশদভাবে তুলে ধরেন। কলেজ সোসাইটির সভাপতি তথা দুর্গাপুরের ‘দ্য মিশন হসপিটাল’ এবং ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ কার্ডিওভাসকুলার-থোরাসিক সার্জনস’-এর সভাপতি ডাঃ সত্যজিৎ বসু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ‘থ্রি-ডি প্রিন্টিং’-এর বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এই সম্মেলনে ‘থ্রি-ডি প্রিন্টিং’এবং অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং-এর চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ‘থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার রূপান্তর: শিক্ষাজগত ও শিল্পের ভূমিকা”—শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অঙ্কুরণ-এর অধিকর্তা এবং আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী প্রশান্ত কুমার, SAIL-IISCO-র টাউন সার্ভিস বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার বিকাশ কুমার এবং দুর্গাপুরের ‘দ্য মিশন হসপিটাল’-র চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ পার্থ পাল। বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ও পলিটেকনিক কলেজে এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে যোগ দেন। উপস্থিত সবাই কলেজে অবস্থিত C-DAC-এর ‘থ্রিডি প্রিন্টিং এবং অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি ল্যাব’ পরিদর্শন করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ জার্নেল সিং।(বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


