
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার অন্তর্গত বীরভানপুর এলাকায় বিজেপির অন্দরের বিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের এক নেত্রীকে বিজেপিরই এক নেতা হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
অভিযোগকারী বিজেপি নেত্রী মালতি বাউরি জানান, এসআইআর (SIR)-এর সময় তিনি বিএলএ-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি সরকারি সামাজিক প্রকল্পের ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে তাঁকে প্রকাশ্যে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। এই ঘটনায় দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডলের শক্তি প্রমুখ নিমাই তন্তুবায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মালতি বাউরির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও বর্তমানে প্রবীণ ও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক প্রকল্পের ফর্ম পূরণের বিষয়েও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তেজ নারায়ণ মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে নিমাই তন্তুবায় অকারণ প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের হেনস্থা করছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে কোকওভেন থানার সামনে জড়ো হন বিজেপির একাংশ কর্মী ও সমর্থক। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এমন ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।
অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ মানতে নারাজ দুর্গাপুর পশ্চিম ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তেজ নারায়ণ মণ্ডল। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব বা উসকানি থাকতে পারে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিষয়টি দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরা হবে। ফলে বীরভানপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির অন্দরের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত।

