
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের দুর্গাপুর ইএসআই হাসপাতালে এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম মনোহর গোপ (৮৫)। তিনি অন্ডাল গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের নার্সদের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে মনোহর গোপকে দুর্গাপুর ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, চিকিৎসার পর তাঁকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু হাসপাতালে আনার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
মৃতের পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি করার পর মনোহর গোপকে দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এর কয়েক মিনিট পর থেকেই তিনি ছটফট করতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরা বারবার নার্সদের বিষয়টি জানালেও দ্রুত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে তাঁদের দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ আত্মীয়রা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল সুপার ডা. দীপাঞ্জন বক্সীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। মৃতের ছেলে সহদেব গোপ অভিযোগ করে বলেন, “দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই বাবার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। আমরা বারবার সাহায্য চেয়েছি, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেননি। একটি ওষুধ এনে খাইয়ে দিতে বলেন নার্সরা। সেই ওষুধ খাওয়ানোর পরেই বাবা মারা যান।”
প্রতিবেশী চঞ্চল পালও অভিযোগ করে বলেন, “রোগী ছটফট করছিলেন। অথচ তখনও কোনও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো যেত।” অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল সুপার ডা. দীপাঞ্জন বক্সী জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
সুপার জানান, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদি চিকিৎসা বা পরিষেবায় গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

