
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: মাত্র ৬৫০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্মেছিল এক নবজাতক। জন্মের সময় গর্ভকাল ছিল মাত্র ৩০ সপ্তাহের কিছু বেশি। চরম অপরিণত অবস্থায় জন্মের পাশাপাশি গর্ভে স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়ার (Severe Growth Restriction) মতো গুরুতর সমস্যাও ছিল তার। জন্মের পর সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, রক্তাল্পতা-সহ একাধিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে সে। চিকিৎসকদের মতে, এটি আধুনিক নবজাতক চিকিৎসার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে জন্মেছিল শিশুটি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই শিশুটির মায়ের একাধিক শারীরিক জটিলতা ছিল। বিভিন্ন পরীক্ষায় ধরা পড়ে, গর্ভে শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। পরবর্তীতে প্লাসেন্টা থেকে শিশুর শরীরে রক্তপ্রবাহও অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কনসালট্যান্ট অবস্টেট্রিশিয়ান ডা. অনির্বাণ দাশগুপ্ত নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখেন মা ও গর্ভস্থ শিশুকে। শেষ পর্যন্ত রক্তপ্রবাহ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছনোর পর জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম করানো হয়।
জন্মের পর নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (NICU) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার নেতৃত্ব দেন কনসালট্যান্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান ডা. অরিত্র সেনগুপ্ত। অপরিণত ফুসফুসের কারণে জন্মের পরই তাকে শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা এবং সারফ্যাক্ট্যান্ট থেরাপি দিতে হয়। ধীরে ধীরে কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সেই সহায়তা থেকে তাকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
চিকিৎসাকালীন সময়ে শিশুটি রক্তে সংক্রমণ, বারবার খাবার হজমে সমস্যা, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, জন্ডিস এবং রক্তাল্পতার মতো একাধিক জটিলতার মুখোমুখি হয়। রক্তাল্পতার জন্য কয়েক দফায় রক্তও দিতে হয়। এই চিকিৎসা পর্বে ডা. সৌরভ তিওয়ারি এবং সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডা. যোশি আনন্দ কেরকেট্টা-ও চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, নিবিড় চিকিৎসার পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্ট), ধাপে ধাপে খাবার দেওয়া এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। বর্তমানে সে নিজে শ্বাস নিতে পারছে, স্বাভাবিকভাবে মুখে খাবার খাচ্ছে এবং ওজনও ধীরে ধীরে বাড়ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়ি ফেরার পরও তার চোখ, শ্রবণশক্তি, শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশের উপর নিয়মিত নজর রাখা হবে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া এবং গর্ভকাল অনুযায়ী অত্যন্ত কম ওজনের শিশুদের চিকিৎসা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সিং টিমের নিরলস প্রচেষ্টা এবং পরিবারের সহযোগিতায় এমন শিশুরাও সুস্থ জীবনের পথে ফিরে আসতে পারে।
অস্ত্রোপচার ছাড়াই জটিল হৃদরোগের উপশম, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত দুর্গাপুরে

