
রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য দফতরের অভিযান
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রক্তদানের পরে রক্তের উপাদান (Blood Components) ভিনরাজ্যে পাচারের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য জুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। মঙ্গলবার কলকাতা, নদিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল এলাকার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, দাতাদের দেওয়া রক্ত থেকে পৃথক করা প্লাজমা ও অন্যান্য রক্তের উপাদান বিপুল অর্থের বিনিময়ে রাজ্যের বাইরে বিক্রি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের নথিপত্র, রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ সংক্রান্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
কলকাতার তিনটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের ধারণা, এই চক্রের জাল জেলাতেও ছড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ, গত ছয় মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যের ব্লাড ব্যাঙ্কে সরবরাহ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাতসকালে দুর্গাপুরে NIA-এর হানা! নিউ স্টিল পার্ক থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি
আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে
ডিএসপি সমবায় ব্যাঙ্কে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি বিজেপি-র
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার একটি ব্লাড ব্যাঙ্ক, নদিয়ার কয়েকটি এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের ডায়মন্ড হাসপাতালে থাকা ব্লাড ব্যাঙ্কে যান তদন্তকারীরা। তবে অভিযান প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা।
তবে অন্ডালের ডায়মন্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের কর্ণধার চিকিৎসক তপন কুমার রায়ের দাবি, হাসপাতালের নিজস্ব কোনও ব্লাড ব্যাঙ্ক নেই। হাসপাতাল চত্বরে যে ব্লাড ব্যাঙ্কটি রয়েছে, সেটি অন্য একটি সংস্থার পরিচালনায় চলে। রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে রক্তের সুবিধা নিশ্চিত করতেই ওই সংস্থাকে জায়গা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

