
রুট ক্যানেলের সময় শ্বাসনালীতে ঢুকে গিয়েছিল ধারালো যন্ত্রটি
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১ আগস্ট: রুট ক্যানেল চিকিৎসার (আরসিটি) সময় দুর্ঘটনাবশত শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়া একটি ধারালো এন্ডোডন্টিক যন্ত্রাংশ ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে সফলভাবে অপসারণ করলেন পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি এবং সুস্থ অবস্থায় পরদিনই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ বছর বয়সী ওই মহিলা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রুট ক্যানেল চিকিৎসা চলাকালীন অসাবধানতাবশত একটি ধারালো এন্ডোডন্টিক যন্ত্রাংশ রোগীর শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, যন্ত্রটি ডান ফুসফুসের নিম্ন খণ্ডের শ্বাসনালীর গভীরে আটকে রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, যন্ত্রটির ধারালো ও আঁকশির মতো গঠনের কারণে সেটি আরও নিচের দিকে সরে গেলে শ্বাসনালীতে গুরুতর ক্ষতি, রক্তপাত কিংবা অন্যান্য জটিলতার আশঙ্কা ছিল। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
রোগীকে অচেতন করার জন্য ওষুধ প্রয়োগের পর থেরাপিউটিক ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শ্বাসনালী থেকে ওই ধাতব যন্ত্রাংশটি বের করে আনা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি। চিকিৎসার পর রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয় এবং পরদিনই তাঁকে সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- অস্ত্রোপচার ছাড়াই জটিল হৃদরোগের উপশম, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত দুর্গাপুরে
মাত্র ৬৫০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল নবজাতক
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শ্বাসনালীতে কোনও ধারালো ধাতব বস্তু আটকে থাকলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এর ফলে শ্বাসনালীতে আঘাত ও রক্তপাত, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের একটি অংশ চুপসে যাওয়া (অ্যাটেলেক্টেসিস), ফুসফুসে ফোড়া তৈরি হওয়া কিংবা বস্তুটি আরও গভীরে সরে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ নির্ণয় বা অপসারণ না হলে থোরাসিক সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, শ্বাসনালীতে এ ধরনের ধারালো বস্তু আটকে গেলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে থেরাপিউটিক ব্রঙ্কোস্কোপি বর্তমানে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি। অনেক ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতির সাহায্যে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব হয়। ফলে রোগীর শারীরিক ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনই দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগও বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগ নির্ণয়, সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করা এবং অভিজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজিস্টের হস্তক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু হওয়ায় শুধু বড় ধরনের অস্ত্রোপচারই এড়ানো যায়নি, সম্ভাব্য প্রাণঘাতী জটিলতার ঝুঁকিও কমেছে।


