দুর্গাপুর দর্পণ, কলকাতা: সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা এখন বইপ্রেমীদের মিলনক্ষেত্র। দেশ-বিদেশের অজস্র বইয়ের পাশাপাশি এবার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টের মিডিয়েশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন কমিটির স্টল। বইমেলার ৫ নম্বর গেটের কাছে ৩২৫ নম্বর স্টলে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের মিডিয়েশন কমিটি কীভাবে মামলার জট কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে—তা বই, লিফলেট ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। মিডিয়েশন কী, কীভাবে আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত বিবাদ মেটানো সম্ভব, তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করছেন কমিটির সদস্যরা।
বইমেলায় আগত দর্শনার্থীদের হাতে মিডিয়েশন সংক্রান্ত লিফলেট ও বই তুলে দিচ্ছেন মিডিয়েশন অফিসের কর্মীরা—মহম্মদ নৌশাদ, সুপ্রিয় বণিক, সুমন দাস ও সায়ন চ্যাটার্জি। তাঁদের কথায়, বিচার ব্যবস্থার এই বিকল্প পথ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এবং মেম্বার সেক্রেটারি সুদীপ ব্যানার্জির পরিচালনায় এই মিডিয়েশন কমিটি সারা বছর রাজ্যজুড়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে।
(Dvita Eye Care। কলকাতার বাইরে সেরা চোখের হাসপাতাল। যোগাযোগ- 0343-6661111)
কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার (ইনসলভেন্সি) ও মিডিয়েশন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ডা. শুভাশিস মুহুরী জানান, “২০০৯ সাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মিডিয়েশন কমিটির কাজ শুরু হয়েছে। এখানে মিডিয়েটর হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিচারক, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক, আইনজীবী ছাড়াও স্থাপত্যবিদ, সাংবাদিক-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা।”
সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্ট ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৭২টি এডিআর (বিকল্প বিবাদ নিষ্পত্তি) কেন্দ্রে মিডিয়েশনের মাধ্যমে মামলা মেটানো হচ্ছে। গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দুই পক্ষের বিবাদ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা যায়— সেই বার্তাই বইমেলার এই স্টলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় হাইকোর্টের মিডিয়েশন কমিটি। সব মিলিয়ে, বইয়ের মেলায় আইনের মানবিক ও বিকল্প রূপ তুলে ধরে দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই স্টল। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


