দুর্গাপুরের কাছেই এই গ্রামে লুকিয়ে আছে কয়েকশো বছরের পুরনো মন্দির নগরী

WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

টেরাকোটার অপূর্ব নিদর্শনে ভরপুর মন্দিরগুলি

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল থেকে সামান্য দূরেই রয়েছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক অমূল্য ভাণ্ডার। এই গ্রাম যেন এক অজানা মন্দির নগরী, যেখানে অতীতের নিদর্শন আজও জীবন্ত হয়ে রয়েছে টেরাকোটার কারুকার্যে ভরা মন্দিরগুলিতে। গ্রামের বুকেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো পাঁচটি শিবমন্দির। রয়েছে আরও একটি প্রায় ৯০০ বছরের কালিমন্দির এবং তার পাশেই ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি দ্বিতল বিষ্ণুমন্দির। মন্দির চত্বর ঘিরে যেন ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীনতার স্পন্দন। নিরিবিলি গ্রাম্য পরিবেশে ঘন গাছগাছালি আর পাখির কলতানে ভরে ওঠে এই গ্রাম। এখানে একবার এলেই প্রকৃতির মুগ্ধতা ও আধ্যাত্মিক শান্তি একসঙ্গে অনুভব করা যায়।

https://youtu.be/-KeJ4IPgJWs

পানাগড়-দুবরাজপুর রাজ্য সড়কের ১১ মাইল মোড় থেকে পশ্চিম দিকে অজয় নদ লাগোয়া এই গ্রাম। গ্রামের নাম বনকাটি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনকাটি গ্রাম মূলত রায় পরিবারের মন্দির নগরী। তাঁরা রাজা বল্লাল সেনের কুলগুরুর বংশধর। ইতিহাস বলছে, রাজা বল্লাল সেন বাংলাদেশ থেকে এসে তাঁর দীক্ষাগুরু তান্ত্রিক আচার্য মহেশ্বর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কাঁকসার গড় জঙ্গলে রাজ্যপাট শুরু করেছিলেন। ঘন জঙ্গল কেটে গড়ে ওঠে বনকাটি গ্রাম। অজয় নদ ঘেঁষা গ্রামটি বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে তৈরি চ্যানেল খাল মারফত কাঠ, কয়লা ও লাক্ষা কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হত, আর ফিরত নানা মশলাপাতি।

(BCREC & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472) 

পরবর্তীতে মহেশ্বর প্রসাদের বংশধরেরা রায়বাহাদুর খেতাব পান এবং বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে তাঁদের পদবি হয় ‘রায়’। তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ লক্ষ্মীকান্ত রায়, প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাঁচটি শিবমন্দির। এই শিবমন্দিরগুলির টেরাকোটার কাজ আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রণব ভট্টাচার্যের মতে, বনকাটি অঞ্চল একসময় ‘সেন পাহাড়ি পরগনা’ নামে পরিচিত ছিল। কারণ এই এলাকায় রাজা বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন ও তাঁদের পূর্বপুরুষদের গড় ছিল। প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়, এখনও আবগারি দফতরের নথিতে এই অঞ্চল ‘সেন পাহাড়ি পরগনা’ নামে উল্লেখিত রয়েছে। দুর্গাপুরের কাছেই অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানে গেলে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, জেগে ওঠে বাংলার এক টুকরো প্রাচীন ইতিহাস। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)

error: Content is protected !!