দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্ক, দুর্গাপুর: মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সঞ্চার হয়েছে। শনিবার দুপুরে পার্ক সার্কাসের একটি সভাগৃহে রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। সমিতির অভিযোগ, বিধানসভা এবং তার বাইরেও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিধায়িকার বক্তব্য ‘কুরুচিকর’ এবং ‘অবমাননাকর’। বিশেষ করে, মাদ্রাসা থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএএস-আইপিএস তৈরি হয় না—বরং অপরাধী তৈরি হয়—এই ধরনের মন্তব্যকে তারা ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক বলে দাবি করেছে। সংগঠনের মতে, এই বক্তব্য মাদ্রাসা শিক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমাজে তার ইতিবাচক অবদানকে অসম্মান করে।
সভায় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা বলেন, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা এবং বহুত্ববাদের মূল ভাবনার সঙ্গে পরিপন্থী এই ধরনের মন্তব্য। তাঁদের দাবি, রাজ্যে সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অর্থের সম্পূর্ণ অংশ বাস্তবে ব্যয় হয় না—এই বাস্তবতাও আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, সংখ্যালঘু বলতে কেবল মুসলিম সম্প্রদায় নয়; খ্রিষ্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধসহ একাধিক গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত।
(Dvita Eye Care। কলকাতার বাইরে সেরা চোখের হাসপাতাল। যোগাযোগ- 0343-6661111)
সমিতির তরফে জানানো হয়, মাদ্রাসার প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষক অমুসলিম সম্প্রদায়ের—ফলে মাদ্রাসাকে একপাক্ষিকভাবে চিহ্নিত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তাঁদের মত। সংগঠনের প্রতিনিধিরা—আতিয়ার রহমান ও সাইদুল ইসলাম—স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই মন্তব্য আইনসভাকে অসম্মানিত করেছে। তাঁদের দাবি, বিধায়িকাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, তাঁকে বিধায়ক পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার কথাও ইঙ্গিত দেন তাঁরা। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


