দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: শীতের ভোর। চারদিক তখনও অন্ধকারে ঢাকা। সেই সময়েই পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের অর্জুনপুর এলাকায় ভেঙে পড়ল এক অসুস্থ মায়ের মাথার শেষ আশ্রয়। শুক্রবার ভোরে দুর্গাপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশন (ডিটিপিএস) কর্তৃপক্ষের জবরদখল উচ্ছেদ অভিযানে ঘরছাড়া হলেন দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত এক মহিলা ও তাঁর দুই ছেলে।
স্থানীয়দের কথায়, ভোর প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ হঠাৎই ডিটিপিএসের লোকজন এসে উচ্ছেদ শুরু করেন। ওই অসুস্থ মহিলা সংবাদমাধ্যমের সামনে কাঁপা গলায় জানান, তাঁকে জোর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর ছেলেরা মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদেরও আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। নষ্ট হয়ে যায় চিকিৎসার কাগজপত্র, প্রেসক্রিপশন। এই প্রবল ঠান্ডায় কোথায় থাকবেন তাঁরা জানেন না।
(Dvita Eye Care। কলকাতার বাইরে সেরা চোখের হাসপাতাল। যোগাযোগ- 0343-6661111)
ডিটিপিএস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গত ছয় মাস ধরে বারবার নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং দিনের বেলায় উচ্ছেদ করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। সেই কারণেই ভোরে অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই হয়েছে। খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখান। প্রাক্তন কাউন্সিলর অরবিন্দ নন্দী বলেন, “শীতের সকালে, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত একজন মাকে ও তাঁর সন্তানদের যেভাবে ঘরছাড়া করা হয়েছে, তা অমানবিক। উন্নয়নের নামে মানুষের শেষ আশ্রয় কেড়ে নেওয়া যায় না।”
বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডলের কথায়, “যদি উচ্ছেদ করতেই হয়, তবে দিনের আলোয়, প্রশাসনের উপস্থিতিতে এবং মানবিক বিকল্প ব্যবস্থা করে করা উচিত ছিল। এভাবে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া, কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই উচ্ছেদ সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।” ডিটিপিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হাসপাতাল নির্মাণের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয় দুটি ঝুপড়ির জন্য। এদিন সে দুটি নিয়ম মেনে ভেঙে দেওয়া হয়। ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে পুরোটা। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


