দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: প্রাণ বাঁচাতে দিন কয়েক আগেই হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে ৭৬ বছর বয়সী কলি ঘোষ দস্তিদারের। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেও এখনও তাঁকে বাড়িতে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে রাখতে হচ্ছে। এমন শারীরিক অবস্থাতেও ভোটার সংক্রান্ত শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন তিনি—মেয়ের সহায়তায় কোনও রকমে গাড়িতে করে পৌঁছতে হল নির্ধারিত কেন্দ্রে। এই ঘটনাকে ঘিরে মানবিকতার প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহলও।
https://youtu.be/gz9KtVHNI5I
পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাচিতির সুভাষপল্লীর বাসিন্দা কলি ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘদিন ধরে এখানেই থাকেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয় ভিরিঙ্গি ত্রৈলোক্যনাথ ইনস্টিটিউশনে।মেয়ে নিশা জানান, সম্প্রতি তাঁর মায়ের হার্টে বড় অস্ত্রোপচার হয়েছে। শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বাড়িতেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে। তবুও শুনানিতে হাজির না হলে সমস্যা বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মঙ্গলবার তাঁকে গাড়িতে করে আনা হয়।
(BCREC & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472)
নিশার কথায়, “মাকে এই অবস্থায় বাইরে আনা খুবই বিপজ্জনক ছিল। বাড়িতে শুনানির ব্যবস্থা হলে অনেকটাই স্বস্তি হত। তবে এখানে এসে সবার সহযোগিতা পেয়েছি।” তবে এই ঘটনার পরে মানবিকতার প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর রাখি তিওয়ারি। তিনি বলেন, “এমন গুরুতর অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত। বাড়িতে শুনানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।” একদিকে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, অন্যদিকে নাগরিক অধিকার রক্ষার চাপ—কলি ঘোষ দস্তিদারের এই অভিজ্ঞতা যেন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাঝেও মানবিক সংবেদনশীলতার প্রয়োজনীয়তাকেই নতুন করে সামনে এনে দিল। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


