দুর্গাপুরে ৭টি ট্যাপ কল বসানোর খরচ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা? চলছে জোর বিতর্ক

WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরে৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধীনগর কলোনিতে পুরসভার উদ্যোগে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের অধীনে সাতটি ট্যাপ কল বসানো হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপির বর্ধমান–দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেয়।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের ভিত্তিতে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় এলাকায় ট্যাপ কল বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। সম্প্রতি মোট সাতটি ট্যাপ কল স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৭৫১ টাকা। প্রতিটি ট্যাপ কলের পাশে বোর্ড টাঙিয়ে খরচের হিসেবও উল্লেখ করা হয়েছে।

(Dvita Eye Care। কলকাতার বাইরে সেরা চোখের হাসপাতাল। যোগাযোগ- 0343-6661111)

কিন্তু এই ব্যয়ের অঙ্ক নিয়েই আপত্তি তুলেছেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “মাত্র সাতটি ট্যাপ কল বসাতে এত টাকা খরচ হওয়ার কোনও যুক্তি নেই। পরিষ্কারভাবে দুর্নীতি হয়েছে। উন্নয়নের নামে যথেচ্ছাচার ও চরম ভাঁওতাবাজি চলছে।” ট্যাপ কল এবং খরচের বোর্ডের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর ভাইস চেয়ারপার্সেন ধর্মেন্দ্র যাদব সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “পুরো কাজ সরকারি নিয়ম মেনেই হয়েছে। নির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করে টেন্ডার ডেকে পাইপলাইন সহ ট্যাপ কল বসানো হয়েছে। বোর্ডেই সব তথ্য স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

চন্দ্রশেখরের পাল্টা দাবি, যে পাইপলাইন বসানোর কথা বলা হচ্ছে, তা আগেই তৈরি করা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশই খরচের পরিমাণ দেখে বিস্মিত হয়ে তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। সিপিএম নেতা বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এক এক রাজনৈতিক দল এক এক রকম করে কাজ করে। যেমন, তৃণমূল শুধু দুর্নীতি করে। ৭টি প্লাস্টিকের ট্যাপ কল বসাতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলা হচ্ছে। কিছু বলার ভাষা নেই।” তৃণমূল অবশ্য সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের নেতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, “সরকারি প্রকল্প সরকারি নিয়ম মেনেই রূপায়িত হয়। বিরোধীরা সম্পূর্ণ তথ্য না জেনে ভিত্তিহীন কথা বলছেন।” সব মিলিয়ে, একটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে ঘিরে দুর্গাপুরে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)

error: Content is protected !!