দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: জয়দেব মেলায় যাওয়ার আগে পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় প্রাতঃভ্রমণ ও চা-চক্রে যোগ দেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য রাজনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তীব্র ভাষায় মত প্রকাশ করেন তিনি। ইডির হাত থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল নিয়ে চলে আসার ঘটনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, পুলিশ যদি সত্যিই অপরাধীদের ধরতে শুরু করে, তাহলে তৃণমূলের কেউ বাইরে থাকবে না, মুখ্যমন্ত্রীকেও যেতে হবে ভিতরে। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্যেই ফাইল “চুরি” হয়েছে এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা আধিকারিকরাও সমান দোষী। তাঁর কথায়, “চুরি-ডাকাতি না করলে তৃণমূলে কেউ নেতা হতে পারে না।” রাজ্যে প্রশাসন ভেঙে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, “যিনি রক্ষক, তিনিই ভক্ষক। তাই শেষ ভরসা আদালতই। আদালত সঠিক রায় দিলে বাংলার মানুষের মধ্যে আশা ফিরবে।”
https://youtu.be/XPfWG84mt6I
নওশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীরের জোট ভেঙে যাওয়া প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, তিনি আগেই এই পরিস্থিতির কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। হুমায়ুন কবীরকে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে ভয় ও লোভের রাজনীতি থেকে মুক্তি সম্ভব এবং উন্নয়ন হবে। তা হলেই মানুষ তাঁর সঙ্গে থাকবে বলে মন্তব্য করেন দিলীপ। ফর্ম ৭ জমা নেওয়া হচ্ছে না— এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা। দিলীপ ঘোষ বলেন, কমিশন ১৫ তারিখ পর্যন্ত আপত্তি জানানোর সুযোগ দিলেও প্রশাসন সেই নির্দেশ মানছে না। তাঁর দাবি, রাজ্যে এখনও বিপুল সংখ্যক ভুয়ো ও অবৈধ ভোটার রয়েছে, মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারই ৫৮ লক্ষ ছুঁয়েছে। অভিযোগ জমা দিতে না দিলে বা মারধর করে ফর্ম কেড়ে নিলে এসআইআরের কোনও মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, তখনও মনোনয়ন দাখিল করতে দেওয়া হয়নি।
(Dvita Eye Care। কলকাতার বাইরে সেরা চোখের হাসপাতাল। যোগাযোগ- 0343-6661111)
দিলীপ ঘোষের দাবি, যতক্ষণ না সব অভিযোগ ফর্ম গ্রহণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ এসআইআর প্রক্রিয়া চালু রাখা উচিত। তাঁর আরও কড়া বক্তব্য, “নইলে আবার লুঠপাট করে ভোট জিতবে। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি দেখা। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হোক, ৩৫৬ ধারা জারি করা হোক।” সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তৃণমূলের ভয় না পেয়ে সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। তাঁর কথায়, “সরকার যাবে-আসবে, আপনারা স্থায়ী। পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নষ্ট হলে আপনারাও দায়ী থাকবেন।” (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


