দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: ওষুধ, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী—সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার অঙ্ক একই জায়গায় আটকে—মাসে ১,০০০ টাকা। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অসন্তোষ নিয়েই সোমবার রাস্তায় নামলেন পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের প্রতিবন্ধীরা। তাঁদের অভিযোগ, বেড়েছে নানা সরকারি প্রকল্পের ভাতা। বাড়েনি শুধু তাঁদের ভাতার পরিমাণ।
শহিদ ভগত সিংহ ক্রীড়াঙ্গন থেকে শুরু হয় তাঁদের প্রতিবাদ মিছিল। কেউ হুইলচেয়ারে, কেউ লাঠি ভর করে ধীরে ধীরে পৌঁছন মহকুমা শাসকের দফতরে। সেখানে জমা দেওয়া হয় স্মারকলিপি। দাবি একটাই—প্রতিবন্ধী ভাতা অবিলম্বে বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা করতে হবে। আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, যাঁদের ভাতা এখনও চালু হয়নি, দ্রুত তা কার্যকর করতে হবে।
(The Mission Hospital. দেশের সেরা চতুর্থ হাসপাতাল এখন দুর্গাপুরে। যোগাযোগ- 8687500500)
কাঁকসার বংশীধর গনের অভিযোগ, চার বছর আগে প্রতিবন্ধী নম্বর পেলেও এখনও ভাতা পাননি তিনি। তাঁর কথায়, “কাগজপত্র সব জমা দিয়েছি, তবু ভাতা শুরু হয়নি।” পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর তরফে গৌতম ঘোষ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছি। অন্তর্বর্তী বাজেটে অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হলেও আমাদের বিষয়টি উপেক্ষিত। দাবি না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।”
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে শুরু হয়েছে পাল্টা প্রতিক্রিয়া। বিজেপি মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বেকারদের ভাতা দিয়ে অক্ষম করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ প্রতিবন্ধীরা যাঁদের প্রকৃতই ভাতা বাড়ানো দরকার, তা করছে না। ভোটের রাজনীতি করা হচ্ছে। অন্যদিকে পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর ভাইস চেয়ারম্যান ধর্মেন্দ্র যাদব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকল্পের ভাতা বাড়াচ্ছেন, প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। তবে রাজনীতির বাইরে রয়ে গিয়েছে এক বাস্তব প্রশ্ন—মাসে ১,০০০ টাকায় কি আজকের দিনে একজন প্রতিবন্ধীর ন্যূনতম প্রয়োজন মেটে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এদিন দুর্গাপুরের রাস্তায় নামলেন তাঁরা—অধিকারের আশায়, সম্মানের দাবিতে।(বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)



