WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৩ সেপ্টেম্বর: ম্যানহোল কিংবা নর্দমায় আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামতে হবে না সাফাইকর্মীদের। নোংরা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে মানুষের বদলে এবার আরও বেশি করে ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স। সেই লক্ষ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার সঙ্গে চুক্তির পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CMERI)-এ সাফাইকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই কথা জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ম্যানহোল পরিষ্কারের সময় বিষাক্ত গ্যাস, অক্সিজেনের ঘাটতি কিংবা অন্যান্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নেমে কাজ করতে গিয়ে সাফাইকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। এই ঝুঁকি পুরোপুরি কমাতেই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগোতে চাইছে রাজ্য।

মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ম্যানহোল পরিষ্কারের জন্য বিশেষ যন্ত্র ব্যবহারের কাজ শুরু হয়েছে। গাড়ির সঙ্গে থাকা অত্যাধুনিক মেশিন ম্যানহোলের ভিতরে নেমে না গিয়েই সাকশন পদ্ধতিতে স্লাজ ও বর্জ্য তুলে আনতে পারে। এমনকী স্লাজ থেকে পরিষ্কার জল আলাদা করার ব্যবস্থাও রয়েছে সেই প্রযুক্তিতে। অর্থাৎ, যে কাজের জন্য এতদিন একজন কর্মীকে ম্যানহোলের ভিতরে নামতে হত, প্রযুক্তির সাহায্যে সেই কাজই বাইরে থেকেই করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ম্যানহোল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে কোনও সাফাইকর্মীকেই ম্যানহোলের ভিতরে নামতে না হয়। আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দুর্গাপুরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের মউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শুধু প্রযুক্তি নয়, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কর্মীদের নামিয়ে কাজ করানোর ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঠিকাদার বা সংস্থা যদি সাফাইকর্মীকে বিপজ্জনকভাবে ম্যানহোল বা নালায় নামিয়ে কাজ করায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর করা হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, পরিচ্ছন্ন শহর তৈরির নামে কোনও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না।

এদিনের কর্মসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—বর্জ্যকে শুধুমাত্র ফেলে দেওয়ার বস্তু হিসেবে না দেখে তা থেকে সম্পদ তৈরির পরিকল্পনা। বর্জ্য থেকে বায়ো-ম্যানিওর, বায়োগ্যাস-সহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে তা সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহারের ব্যবস্থাকেও আরও জোরদার করার কথা জানান মন্ত্রী।

প্রথম পর্যায়ে এই উদ্যোগের আওতায় আসছে দুর্গাপুর, আসানসোল পুরনিগম, বর্ধমান পুরসভা, চন্দননগর এবং বিধাননগর পুরনিগম। পরে ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শহর পরিষ্কার থাকবে, কিন্তু সেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মূল্য দিতে গিয়ে কোনও সাফাইকর্মীর জীবন যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে—প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিতে চাইছে রাজ্য।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি তুলে ফেলে দেওয়া হল জঙ্গলে!

(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)