WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর: অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ার পর শুরু হয়েছিল কঠিন লড়াই। তার উপর অস্ত্রোপচারের সময় দেখা দেয় রক্তনালীর অস্বাভাবিক বিন্যাস। দীর্ঘ ৭-৮ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের পর অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়েও তৈরি হয় গুরুতর শারীরিক জটিলতা। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৬৪ বছরের এক মহিলা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রোগীর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় হুইপলস সার্জারি (প্যানক্রিয়াটিকোডুওডেনেক্টমি) করা হয়। হাসপাতালের কনসালট্যান্ট রোবোটিক অঙ্কো-সার্জন ডা. অর্ণব চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারটি হয়। চিকিৎসকদের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রোগীর ডান ও বাম হেপাটিক ধমনীর অস্বাভাবিক অবস্থান ও বিন্যাস। ফলে অস্ত্রোপচারের আগে অত্যন্ত সতর্ক পরিকল্পনা এবং অস্ত্রোপচারের সময় নিখুঁত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে দাবি।

প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পরও বিপদ কাটেনি। হাসপাতালের দাবি, পরবর্তী পর্যায়ে রোগীর রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায় এবং হাত-পায়ে দুর্বলতা ও অবশভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতির দ্রুত শনাক্তকরণের পর তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হাসপাতালের আইসিইউ টিম। ডা. মানস ব্যানার্জির নেতৃত্বে ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিমের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় পরবর্তী চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অঙ্কো-সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, আইসিইউ এবং অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন ওই মহিলা। অস্ত্রোপচারের সাত দিন পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একটি জটিল অস্ত্রোপচার শুধু অপারেশন থিয়েটারের কয়েক ঘণ্টার লড়াই নয়—তার পরের প্রতিটি মুহূর্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনাতেও অস্ত্রোপচারের পর তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি সামলে রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- জটিল গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: মিশন হাসপাতালে সফল রোবোটিক হিস্টেরেক্টমি

উন্নত প্রযুক্তিতে দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন, মাত্র ১০ দিনেই স্বাধীনভাবে হাঁটলেন ৬৫ বছরের রোগী!