দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২০ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘদিনের হাঁটুর যন্ত্রণা ও বিকৃতির কারণে স্বাভাবিক চলাফেরায় সমস্যায় ভুগছিলেন ৬৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। গ্রেড ৪ অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং গ্রেড ২ ভ্যালগাস ডিফরমিটির কারণে তাঁর দুই হাঁটুতেই গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে তাঁর দুই হাঁটুর টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, অস্ত্রোপচারে কোয়াড্রিসেপস-স্পেয়ারিং মিনিমালি ইনভেসিভ সাবভাস্টাস অ্যাপ্রোচ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি সেলাইবিহীন ক্লোজার পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে নূন্যতম কাটাছেঁড়া করার দরুণ রোগীর দ্রুত আরোগ্য লাভ হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্যই হল অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত রোগীর চলাফেরা ও পুনর্বাসন শুরু করা। স্বাভাবিকভাবেই এই অস্ত্রোপচারের পর রোগীর উপসম দ্রুত এগিয়েছে।
হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনেই অবলম্বনের সাহায্যে হাঁটতে সক্ষম হন ওই রোগী। দশম দিনের মধ্যে তিনি অবলম্বন ছাড়াই স্বাধীনভাবে হাঁটতে শুরু করেন। এই অস্ত্রোপচার করেন দ্য মিশন হাসপাতাল, দুর্গাপুরের জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট ও রিকনস্ট্রাকশন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সন্তু সরকার। তিনি এমএস এবং এমসিএইচ (জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন, এইমস) ডিগ্রিধারী এবং রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন হিসেবে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন- জটিল গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: মিশন হাসপাতালে সফল রোবোটিক হিস্টেরেক্টমি
শ্বাসনালীতে ঢুকে গেল ধারালো যন্ত্রাংশ, অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীকে সুস্থ করল মিশন হাসপাতাল
চিকিৎসকদের বক্তব্য, হাঁটুর জটিলতা, শারীরিক অবস্থা এবং অস্ত্রোপচারের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় আলাদা হতে পারে। তাই দ্রুত হাঁটতে পারার এই অভিজ্ঞতাকে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে, একটা কথা অনস্বীকার্য। মিশন হাসপাতালের এই সাফল্য সেই সব রোগীদের ভরসা জোগাচ্ছে যাঁরা একই সঙ্গে দুই হাঁটুর সমস্যায় দিনের পর দিন ভুগছেন।



