WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

‘ড্রাগ-ফ্রি ইন্ডিয়া’ গড়ে তোলার ডাক

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কমলপুরে এনএসএমএস গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনস প্রাঙ্গণ শনিবার পরিণত হয়েছিল যুবশক্তির মিলনমেলায়। ভারত সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের অধীন মেরা যুব ভারত (MY Bharat), দুর্গাপুর-এর উদ্যোগে এবং এনএসএমএস গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনস, দুর্গাপুর চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত হয় পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলা স্তরের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ‘নেশা মুক্ত যুব, বিকশিত ভারত’।

অনুষ্ঠানের সূচনা করেন দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম। অতিথিদের স্বাগত জানান এনএসএমএস গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনস-এর চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করেন মেরা যুব ভারত–দুর্গাপুরের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রিয়াঙ্কা ঘোষ এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. বিশ্বজিৎ রুজ।

বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার এবং সমাজের ভবিষ্যৎকেও বিপন্ন করে। তাই সুস্থ জীবনযাপন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমে যুব সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ‘বিকশিত ভারত’-এর অন্যতম ভিত্তি। একটি মাদকমুক্ত প্রজন্মই আগামী দিনের শক্তিশালী ভারতের নির্মাতা—এই বার্তাই উঠে আসে প্রতিটি বক্তৃতায়।

এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আটটি সৃজনশীল প্রতিযোগিতা। লোকসঙ্গীত, নৃত্য, নুক্কড় নাটক ও মাইম, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক ও বক্তৃতা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা রিল নির্মাণ, স্লোগান রচনা এবং স্ল্যাম পোয়েট্রির মাধ্যমে প্রতিযোগীরা মাদকবিরোধী বার্তা তুলে ধরেন। মোট ২৫৪ জন প্রতিযোগী তাঁদের অভিনব উপস্থাপনার মাধ্যমে সচেতনতার বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন।

আরও পড়ুন: আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে

আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষার দায়িত্ব পেল ‘রাইটস’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সগরভাঙ্গা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজীব চ্যাটার্জী, নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষা পিয়া বিশ্বাস, ফার্মেসি কলেজের অধ্যক্ষ সঞ্জিৎ মণ্ডল-সহ জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, যুব সংগঠক এবং অন্যান্যরা।

প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মোট ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। প্রতিটি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারীর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারীরা পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রতিনিধিত্ব করে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন সেনানী ভগীরথ সামুই যুব সমাজের উদ্দেশ্যে মাদকমুক্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশগঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ও রাজ্য রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব কবি ঘোষ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনিক বিশ্বাস জানান, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আগামী দিনেও পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।