রাজা বল্লাল সেনের আমল থেকে শুরু, আজও চলছে বনকাটি রায়বংশের তান্ত্রিক কালীপুজো
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) কাঁকসার বনকাটি রায়বাহাদুর বাড়ির কালীপুজোর শুরু হয়েছিল রাজা বল্লাল সেনের আমলে। পরিবারের প্রবীণ সদস্য অনিল রায় জানান, যখন অবিভক্ত বাংলা ছিল, তখন রাজা বল্লাল সেন পূর্ববঙ্গের রাজা ছিলেন। শত্রু আক্রমণে বিতাড়িত হয়ে তিনি গুরুদেব তান্ত্রিক আচার্য মহেশ্বর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা ও গঙ্গা নদী পেরিয়ে পশ্চিমাঞ্চলে এসে পৌঁছান। এরপর অজয় নদ ধরে তিনি বর্তমানে কাঁকসার এই বনাঞ্চলে আসেন। গুরুদেব এখানে তন্ত্রসাধনা শুরু করেন এবং বন কেটে গ্রাম গড়ে তোলেন — সেই থেকেই গ্রামের নাম হয় বনকাটি।”
https://youtu.be/Q3EnbJhZw7M
অনিলবাবু আরও জানান, প্রথমদিকে এই পুজোয় নরবলির প্রচলন ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে এখন মহিষ বলির রীতি চলে আসছে। পুজোটি হয় সম্পূর্ণ তান্ত্রিক মতে। পুজোর আগের রাতে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য শ্মশানে গিয়ে গোপন তান্ত্রিক কর্ম সম্পাদন করেন। শ্মশান থেকে সংকেত পাওয়ার পর তিনি মন্দিরে ফিরে আসেন, তখনই মূল পুজো শুরু হয়।
(BCREC & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472)
এই তান্ত্রিক কালীপুজো শুরু হয় রাত্রি দশটা নাগাদ এবং চলে ভোর পর্যন্ত। পুজো শেষে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্মুখী যজ্ঞ, যেখানে চারজন ব্রাহ্মণ একযোগে ৫ থেকে ৭ কেজি ঘি ঢেলে যজ্ঞ সম্পূর্ণ করেন। রায় পরিবার দাবি করে, রাজা বল্লাল সেনের গুরু তান্ত্রিক আচার্য মহেশ্বর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই বনকাটিতে এই পুজোর সূচনা। পরে, রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালে কবি জয়দেব যখন সভাকবি ছিলেন, তখনও এই পুজোর আয়োজন হয়েছে। সেই ধারাই আজ এক হাজার দশ বছর অতিক্রম করেছে।
এই পূজোতে এখনও পর্যন্ত বলির প্রথা বজায় রয়েছে — ছাগল, ভেড়া এবং মহিষ বলি হয়। বিশেষভাবে, মহিষ বলির পর তার অংশ নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেওয়া হয় ‘শিবভোগ’-এর জন্য — যা শেয়াল ও কুকুরের মতো প্রাণীদের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে মা কালীকে নিবেদন করা হয়। বর্তমানে এই পুজো রায় পরিবারের ১৭তম প্রজন্মের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে, যারা মূল গুরুদেব তান্ত্রিক আচার্য মহেশ্বর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বংশধর হিসাবে পরিচিত। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন )


