WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দীর্ঘদিন ধরেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যায় জর্জরিত রাজ্যের বিভিন্ন শহর। এবার সেই সমস্যার সমাধানে দুর্গাপুরের কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইআর-সিএমইআরআই-এর উদ্ভাবিত আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে সিএমইআরআই পরিদর্শনের পর এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

সিএমইআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা ‘প্লাজমা গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট’ নামে একটি অত্যাধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হল, জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করে দেওয়ার জন্য আগে থেকে কোনও পৃথকীকরণের প্রয়োজন হয় না। যান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বর্জ্য আলাদা হয়ে যায় এবং পরে তা থেকে ইট, জৈব সার, বায়োগ্যাস, রিফিউজ ডিরাইভড ফুয়েল (RDF)-সহ বিভিন্ন উপযোগী সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব।

এদিন মন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে সিএমইআরআইয়ের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, সরকার প্রয়োজনীয় জমি দেবে, সিএমইআরআই প্রযুক্তিগত নকশা ও পরামর্শ দেবে, সেই অনুযায়ী যন্ত্রপাতি তৈরি করা হবে এবং টেন্ডারের মাধ্যমে নির্বাচিত সংস্থা তা স্থাপন করবে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে রাজ্য সরকার ও সিএমইআরআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুরে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের সমস্যা। শঙ্করপুর সংলগ্ন এলাকায় বিশাল বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হওয়ায় দুর্গন্ধ ও দূষণের অভিযোগে বহুবার সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে দুর্গাপুরে একটি আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হলেও পরে সেটি অচল হয়ে পড়ে। কর্মীদের বকেয়া বেতন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে অগ্নিকাণ্ডের জেরে সেই প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে নতুন কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখায়নি। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্তমান সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে চায়।

সিএমইআরআইয়ের প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য শহরেও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট, আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রোর সম্ভাবনা