সুজয় ভট্টাচার্য, দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman)জেলার ফরিদপুর (লাউদোহা) থানার অন্তর্গত আরতি গ্রামে দেওয়াল রং করা নিয়ে বিবাদ ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকালে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সামান্য বচসা থেকে শুরু হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় দু’পক্ষ। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জখম হয়েছেন। তৃণমূলের মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
মাথায় চোট নিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শেখ নফিজুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ির সীমানা প্রাচীর রং করাকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপরে হামলা চালানো হয়। তাঁর মাথা ফেটে যায়। বাড়ির আসবাবপত্র, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। নফিজুলের দাবি, তাঁর স্ত্রী স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা তৃণমূলের সম্পাদক মহিদুল ইসলাম ওরফে রাজুর নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তিনি দলীয় নেতৃত্বকে জানাবেন বলে জানান তিনি।
(The Mission Hospital. দেশের সেরা চতুর্থ হাসপাতাল এখন দুর্গাপুরে। যোগাযোগ- 8687500500)
মহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠরা পাল্টা দাবি করেন, প্রথমে মহিদুল ও তাঁর ভাইয়ের উপর হামলা হয়, এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এলাকাবাসীর একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। নফিজুলের বাড়িতে ভাঙচুরের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেন তাঁরা। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে আতঙ্কে ভুগছেন সাধারণ গ্রামবাসীরা। যদিও তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এটা নিছক গ্রাম্য বিবাদ। পুলিশ তদন্ত করছে। বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছে।” ঘটনার পর এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)