জল থৈ থৈ তপোবন সিটি! দুর্বিষহ দিনযাপন আবাসিকদের

Advertisement

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: তপ্ত গরম, কিন্তু কাঁকসার গোপালপুরের তপোবন সিটি আবাসনে যেন বর্ষার আগাম ছবি। চারদিকে থৈথৈ জল। রাস্তা, গলি, বাড়ির সামনের অংশ—সবই ডুবে নোংরা জলে। শুধু তপোবন সিটি নয়, আড়া থেকে বামুনারা পর্যন্ত একাধিক আবাসনের বাসিন্দারা একই দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ।

প্রতিদিন হাঁটু জল পেরিয়ে কাজে যেতে হচ্ছে মানুষজনকে। স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ছে পড়ুয়ারা। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আবাসনের ভিতরে জমে থাকা জল থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। অনেকের ঘরে জল ঢুকে যাচ্ছে। দোকানপাটেও জল ঢুকে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আগে এই এলাকায় বড় অংশ জুড়ে ছিল জলাভূমি ও নিকাশি ব্যবস্থার স্বাভাবিক পথ। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই জলাভূমি ভরাট করে একের পর এক বহুতল ও আবাসন তৈরি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির জল বা নিকাশির জল বেরোনোর রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার জেরেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। অন্যরা বলছেন, পাইপলাইন ফেটে এই বিপত্তি।

Advertisement

এক আবাসিকের কথায়, “গ্রীষ্মের মধ্যেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে তা ভেবেই আতঙ্ক হচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি।” আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, “প্রশাসনের কাছে বারবার জানিয়েও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। সাময়িকভাবে জল নেমে গেলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।” জমে থাকা নোংরা জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলেও পরিবারগুলির অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিকাশি সংস্কার, জল নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হোক। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই—বর্ষা আসছে কিছু দিনের মধ্যে। তার আগেই যদি এমন জলযন্ত্রণা শুরু হয়, তাহলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে? সেই আশঙ্কাতেই দিন কাটছে এলাকার বহু পরিবারের।

(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

Advertisement

Related Posts