দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: শনিবার পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার ডঃ বি. সি. রায় কলেজ অফ ফার্মেসি অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস (BCRCP) মেধাস্বত্ব অধিকার (IPR) বিষয়ের উপর সম্প্রতি একটি তিন দিনের ফ্যাকাল্টি উন্নয়ন কর্মশালার (FDP) আয়োজন করে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান, কারিগরি ও বায়োটেকনোলজি (DSTBT) বিভাগের অন্তর্গত ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WBSCST)। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়-সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফ্যাকাল্টি সদস্য এবং রিসার্চ স্কলারদের যুগোপযোগী করে তোলাই এই কর্মশালার উদ্দেশ্য।


গত ১৪ জানুয়ারি বিসিআরসিপি-এর ডঃ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় সেমিনার হলে শুরু হয় এই কর্মশালা। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সচিব (DSTBT) সঞ্জয় কুমার দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন পেটেন্ট ইনফরমেশন সেন্টার, WBSCST, DSTBT এর বিজ্ঞানী (II) ডঃ মহুয়া হোম চৌধুরী। তাঁরা কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে এদিন উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা IPR Cell – BCRCP এরও উদ্বোধন করেন তাঁরা।


এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, ফ্যাকাল্টি সদস্যদের উদ্ভাবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণকে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষাগত অনুশীলনগুলিকে জাতীয় উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ নীতির সঙ্গে সংহত করা। প্রসঙ্গত, ফার্মেসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (PCI) ব্যাচেলর অফ ফার্মেসি পাঠ্যক্রমে মেধাস্বত্ব অধিকার, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উপর কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা এই উদ্যোগের সময়োপযোগিতা এবং প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরে।
উপস্থিত বিশিষ্ট সরকারি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান ডঃ সমীর কুমার সামন্ত, অধ্যক্ষ, বিসিআরসিপি, তরুণ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক, ডঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সোসাইটি), অধ্যাপক সৈকত মৈত্র, প্রধান উপদেষ্টা, ডঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সোসাইটি)। এই মহৎ উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার জন্য তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শুভব্রত রায়, ইন-চার্জ, পিজি ও গবেষণা, বিসিআরসিপি; সাগর সেনগুপ্ত, রেজিস্ট্রার, বিসিআরসিপি; ডঃ অমিত কুমার হালদার, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তথা ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ফ্যাকাল্টি উন্নয়ন কর্মশালার নোডাল অফিসার।
(BCREC & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472)
কর্মশালার প্রথমদিন সঞ্জয় কুমার দাস শিল্প-ভিত্তিক গবেষণার অপরিহার্যতার উপর জোর দেন। শুধুমাত্র প্রকাশনা সংখ্যার উপর মনোযোগ না দিয়ে নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন করা এবং প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্টের উপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। ডঃ মহুয়া হোম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে মেধা সম্পত্তি তৈরির পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট ও পেটেন্ট অর্জন কেবল উদ্ভাবনকে সুরক্ষিতই করে না, বরং এটি কর্মজীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।” ফ্যাকাল্টি সদস্যদের তিনি পড়ুয়াদের পেটেন্ট এবং পণ্য-ভিত্তিক গবেষণা করার জন্য উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান।
দ্বিতীয় দিনের কর্মশালায় প্রথমে বক্তব্য রাখেন সন্দীপন কুন্ডু, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, গ্রিফলস ইন্ডিয়া হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড, গুরগাঁও। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সীতানাথ মুখোপাধ্যায়, ডেপুটি ডিরেক্টর, এমএসএমই, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তৃতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন পারমিতা সাহা, বিজ্ঞানী (I), পেটেন্ট ইনফরমেশন সেন্টার। তিনি তাঁর বক্তব্যে পেটেন্ট বিষয়ক প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কীভাবে দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব, সে বিষয়ে সকলকে অবগত করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ডঃ মৌ সেন, যুগ্ম পরিচালক (এমএসএমই অ্যান্ড টি), পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সবশেষে কর্মশালায় উঠে আসা নানা দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সোসাইটি)-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক সৈকত মৈত্র। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


