মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দির: ঐতিহ্য, আস্থা ও সাম্প্রদায়িক মিলনক্ষেত্র

WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

প্রণয় রায়, দুর্গাপুর দর্পণ: মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগের কাছে কিরিটী কোনা গ্রামে অবস্থিত শ্রী কিরীটেশ্বরী মন্দির বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সতীর দেহাংশের মুকুট বা কিরীট এই স্থানে পতিত হয়েছিল। আবার মন্দিরের প্রধান সেবায়েত দিলীপ কুমার ভট্টাচার্যের মতে, এখানে দেবীর করোটির উপরিভাগ পড়েছিল। সেই করোটির উপর সোনার মুকুট বা কিরীট থাকার কারণেই দেবীর নাম হয়েছে ‘কিরীটেশ্বরী’ এবং মন্দিরের নাম ‘শ্রী কিরীটেশ্বরী মন্দির’।

স্থানীয় মানুষ দেবীকে ‘মুকুটেশ্বরী’ নামেও পূজা করে থাকেন। মন্দিরটি মুর্শিদাবাদ শহর থেকে প্রায় ১৮–২০ কিলোমিটার দূরে এবং লালবাগ কোর্ট রোড রেলওয়ে স্টেশন থেকে আনুমানিক তিন মাইল দূরত্বে অবস্থিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, নাটোরের রানি ভবানী ১১০৪ বঙ্গাব্দে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে ১৪০৫ সালে আদি মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে গেলেও উনিশ শতকে লালগোলার রাজা বর্তমান মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন। এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল—এখানে কোনও দেবীমূর্তি নেই। একটি পবিত্র শিলা বা পাথরকেই দেবীর প্রতীক রূপে পূজা করা হয়, যা মুকুটেশ্বরী নামে পরিচিত।

(The Mission Hospital. দেশের সেরা চতুর্থ হাসপাতাল এখন দুর্গাপুরে। যোগাযোগ- 8687500500)

শুধু ধর্মীয় স্থান হিসেবেই নয়, কিরীটেশ্বরী মন্দির হিন্দু–মুসলমান সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত। বহু বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে এই মন্দিরের উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এই ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক কিরিটকোনা গ্রামকে ভারতের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসেবে পুরস্কৃত করে। ধর্ম, ইতিহাস ও পর্যটনের মিলিত আকর্ষণে কিরীটেশ্বরী আজও অগণিত মানুষের শ্রদ্ধা ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)

error: Content is protected !!