দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: হস্তশিল্পের রং, নকশা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের মিলনস্থল হিসেবে পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরে ফের শুরু হল সৃষ্টিশ্রী মেলা। তৃতীয় বর্ষে পা রাখা এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল মঙ্গলবার বিকেল চারটেয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডলের হাত ধরে সূচনা হল এবছরের সৃষ্টিশ্রী মেলার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল–দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত, দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ (শিক্ষা ও ক্রীড়া) বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পুর নিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর মুখ্য প্রশাসক অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।
এবছর সৃষ্টিশ্রী মেলায় রাজ্যের ১৩টি জেলা থেকে মোট ১৪৩ জন হস্তশিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের তৈরি মাটির কাজ, শোলা শিল্প, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, হাতের তাঁতের কাপড় থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক কারুশিল্প সামগ্রী মেলায় প্রদর্শিত ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, গ্রামীণ শিল্পীদের সৃষ্টিকে সরাসরি শহরের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতেই এই মেলার আয়োজন।
(The Mission Hospital. দেশের সেরা চতুর্থ হাসপাতাল এখন দুর্গাপুরে। যোগাযোগ- 8687500500)
মেলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “সারা বছর ধরে যাঁরা হাতে-কলমে কারুশিল্পের কাজ করেন, তাঁরা এই মেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। দুর্গাপুরের মানুষও প্রতি বছর আগ্রহ নিয়ে তাঁদের তৈরি সামগ্রী কেনেন।” তিনি জানান, ক্রমেই বাড়ছে এই মেলার জনপ্রিয়তা ও বিক্রির অঙ্ক। প্রথম বছরে যেখানে বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবছর সৃষ্টিশ্রী মেলার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি। আয়োজকদের আশা, এই মেলার মাধ্যমে হস্তশিল্পীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা আরও মজবুত হবে এবং তাঁদের কাজ রাজ্যজুড়ে নতুন পরিচিতি পাবে। দুর্গাপুরে সৃষ্টিশ্রী মেলা তাই শুধুই কেনাবেচার জায়গা নয়, গ্রামীণ শিল্প ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)