দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রবিবার পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman)জেলার দুর্গাপুরের ডিএসপি টাউনশিপের বি-জোনের চন্ডীদাস এলাকায় এক তরুণীকে ‘ইভটিজিং’-এর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্ডীদাস এলাকায় একটি ক্লাবের উদ্যোগে সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময় এক যুবকের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের দাবি, অভিযুক্ত যুবক বিজেপির কর্মী। অভিযোগের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ওই যুবক বিজেপির স্থানীয় যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ।
পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত যুবক তাঁর গাড়ির চালক এবং কোনও ‘ইভটিজিং’-এর ঘটনা ঘটেনি। পারিজাতের অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে প্রথমে তাঁর চালককে এবং তাকে বাঁচাতে গেলে তিনি ও তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরা আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ও আইএনটিটিইউসি নেতৃত্ব ছিলেন দলে। তাঁর দাবি, ‘ইভটিজিং’ ঘটনা সত্য হলে সংশ্লিষ্ট তরুণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতেন।
(BCREC & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472)
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, বর্ধমান–দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিজেপি নেতৃত্ব বি-জোন ফাঁড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে তৃণমূলের ১ নম্বর ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষ-সহ শাসক দলের নেতারাও ফাঁড়িতে পৌঁছন। ফাঁড়ির বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং উভয় দলের নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তৃণমূল নেতা রাজীব ঘোষ বলেন, “এক বহিরাগত বিজেপি কর্মী স্থানীয় যুবতীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি অযথা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিতে চাইছে।” অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের পাল্টা দাবি, “ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। ‘ইভটিজিং’ ও মারধর তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের কর্মীদের হেনস্থা করা হয়েছে।” (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)