দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের কিশোর-কিশোরীদের মনে জমে থাকা অজস্র প্রশ্ন, সংকোচ আর দ্বিধাকে ভাঙার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হল এক ব্যতিক্রমী সচেতনতা কর্মশালার। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনএসপিসিএলের সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং দুর্গাপুর সুন্দরম ক্রিয়েটিভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন স্কুলে অনুষ্ঠিত হল ‘বেধড়ক বলো’ শীর্ষক এই উদ্যোগ।
এই কর্মশালায় অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে শরীর ও মনের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক ধারণা দেওয়াই ছিল কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করা হয়। দুর্গাপুর সুন্দরম ক্রিয়েটিভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে অদিতি সরখেল জানান, এই বয়সে কিশোর-কিশোরীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল জন্ম নেয়। কিন্তু সংকোচের কারণে অনেক সময় তারা সেই প্রশ্নগুলো কারও কাছে প্রকাশ করতে পারে না। সেই কারণেই ‘বেধড়ক বলো’ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ভয়ে নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরতে পারে এবং বৈজ্ঞানিক ও সঠিক উত্তর পায়।
কর্মশালায় প্রশিক্ষকেরা নানা উদাহরণ, চিত্র ও আলোচনার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নের ধৈর্য সহকারে ব্যাখ্যা করে উত্তর দেওয়া হয়। কর্মসূচির শেষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিটও তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, অনেক প্রশ্ন থাকলেও এতদিন বলতে লজ্জা পেত। এদিন তারা সেই সব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সঠিক পথে এগোতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছে তারা।
উদ্যোক্তাদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার ছিল এই কর্মশালার শেষ দিন। সুন্দরমের কার্যালয়ে আয়োজিত হয় সমাপ্তি অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নেপালিপাড়া হিন্দি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমুল হক, জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক জইনুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।সচেতনতার আলোয় কিশোর মনকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মুক্ত করে তুলতে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকমহল। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


