ভোরের রাস্তায় বেরিয়ে থেমে গেল তরুণের জীবন, ক্ষোভে ফুঁসছে সরপি

WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

উপরে ব্যবহৃত ছবিটি এআই প্রণীত

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রবিবারের সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণভাবে। বাড়িতে চা খেয়ে বেরিয়েছিলেন ২৫ বছরের পরিতোষ রুইদাস। বলেছিলেন, “সরপি মোড় পর্যন্ত যাচ্ছি।” সেই যাত্রাই যে শেষ যাত্রা হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুর–ফরিদপুর ব্লকের উখড়া–মাধাইগঞ্জ সড়কের সরপি মোড়ে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ পরিতোষ রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় উখড়ার দিক থেকে আসা একটি ১৬ চাকার ভারী লরি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তরুণটি।

দুর্ঘটনার শব্দে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষজন। রাস্তায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যান সবাই। খবর পৌঁছায় বাড়িতে। হাসিখুশি ছেলে, যে একটু আগেই বেরিয়েছে—সে আর নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সরপি মোড়ে জমে ওঠে মানুষের ভিড়। শোক দ্রুতই বদলে যায় ক্ষোভে। মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং এই বিপজ্জনক সড়কে অবিলম্বে যান নিয়ন্ত্রণের দাবিতে উখড়া–মাধাইগঞ্জ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে বসেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রথমে পুলিশকে দেহ উদ্ধার করতেও দেওয়া হয়নি।

(The Mission Hospital. দেশের সেরা চতুর্থ হাসপাতাল এখন দুর্গাপুরে। যোগাযোগ- 8687500500)

ঘটনাস্থলে পৌঁছান পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, তৃণমূলের দুর্গাপুর–ফরিদপুর ব্লক সভাপতি শতদীপ ঘটকসহ স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, পাশে থাকার আশ্বাস দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। অবরোধ ওঠে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।এরপর পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন কারখানার ভারী যান চলাচল করে। নেই পর্যাপ্ত নজরদারি, নেই গতি নিয়ন্ত্রণ। সেই অবহেলার বলি হল আরও এক তরুণ জীবন। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু সরপির মানুষ প্রশ্ন তুলছেন—এভাবে আর কত পরিতোষ হারাতে হবে? নিরাপদ রাস্তার দাবি কি শুধুই প্রতিশ্রুতিতেই আটকে থাকবে? (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)

error: Content is protected !!