দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের পলাশডিহার রবিবার রাতের ঘটনা যেন এখনও স্তব্ধ করে রেখেছে গোটা এলাকাকে। এক মহিলাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন গোপাল দাস। অভিযোগ, কুড়ুলের কোপে তাঁকে খুন করেছে এলাকারই যুবক বিজয় টুডু। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার সকাল থেকেই কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা যুধিষ্ঠির সিংহ ও তাঁর স্ত্রী প্রমীলা সিংহ গোপালকে নিজের সন্তানের মতোই দেখতেন। যুধিষ্ঠির বিজয়কে কাজে নিয়ে গিয়েছিল। কাজের মজুরি নিয়ে অশান্তির জেরে বিজয় কাজ ছেড়ে দেয়। রবিবার রাতে উর্মিলা তাঁর ঘুগনির দোকানে ছিলেন। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে বিজয়। ঠিক সেই সময় সেখান দিয়ে আসছিলেন গোপাল। তিনি প্রতিবাদ করেন। শুরু হয় বচসা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিজয় দৌড়ে বাড়ির ভিতর ঢুকে কুড়ুল নিয়ে এসে আচমকা গোপালের মাথায় আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গোপাল।
https://youtu.be/GIF7BetLzWI
(The Mission Hospital. দেশের সেরা চতুর্থ হাসপাতাল এখন দুর্গাপুরে। যোগাযোগ- 8687500500)
প্রমীলার চোখে জল। কোনও রকমে বলেন, “ও আমার পাতানো ছেলে ছিল। আমার সামনেই কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে দিল। তখনও বুঝিনি ও আর ফিরবে না।” স্থানীয়রা তড়িঘড়ি গোপালকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। যুধিষ্ঠির ও প্রমীলা দ্রুত গিয়ে ফাঁড়িতে খবর দেন।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায় এবং এলাকা ঘিরে ফেলে। সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্ত আগেও পাড়ায় অশান্তি করেছে। নিজের পরিবারের লোকজনের উপরেও অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছে। পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে ছাড়া পায়। এবার খুনের দায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই তার। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিজয়কে আটকাতে গেলে তাঁর দিকেও কুড়ুল নিয়ে তেড়ে আসে সে। শেষমেশ এক যুবক পিছন থেকে কুড়ুল কেড়ে না নিলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের মামলা রুজু হয়েছে। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)


