
দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের পদিমপুর গ্রামে গত ১৫ জুলাই পালিত হল প্রয়াত বিচারক মহম্মদ নুরুল হোদা মোল্লার দশম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে স্থানীয় মসজিদে এক দোওয়ার মজলিসের আয়োজন করা হয়। শতাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন।
বিচারক মহম্মদ নুরুল হোদা মোল্লার কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক। সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, আইন পেশা এবং বিচার বিভাগের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে রাজ্যের আইনজগতের এক সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম ব্যাচ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কাটোয়ার কাশীরাম দাস ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা এবং কাটোয়া কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অতিথি অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি কাটোয়া মহকুমা আদালতে বিশিষ্ট আইনজীবী তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুনিয়র হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৮৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় তিন দশক ধরে বর্ধমান, আরামবাগ, কালনা, সিউড়ি, দাঁতন, আলিপুর, আলিপুরদুয়ার, বসিরহাট, মেদিনীপুর, গড়বেতা ও শ্রীরামপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষার দায়িত্ব পেল ‘রাইটস’
২০১৬ সালের এই দিনেই মঙ্গলকোটের পদিমপুরে নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। যদিও তাঁর পৈতৃক বাড়ি ছিল কাটোয়ার শ্রীখণ্ড এলাকায়। প্রয়াত বিচারকের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ২০১৭ সাল থেকে মঙ্গলকোটের কোগ্রামে কুমুদ সাহিত্য মেলা কমিটি তাঁর নামে একটি স্মারক সম্মান প্রদান করে আসছে। এই সম্মানে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আনসার মণ্ডল, আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহরায়, মাধব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্মানিত হয়েছেন বলে জানান প্রয়াত বিচারকের জ্যেষ্ঠ পুত্র মোল্লা জসিমউদ্দিন।
এদিনের দোওয়ার মজলিসে উপস্থিত সকলেই বিচারক মহম্মদ নুরুল হোদা মোল্লার কর্মময় জীবন, ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং সমাজের প্রতি তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।


