
নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৩ আগস্ট: জীবনের নতুন অধ্যায়ের যাত্রা যেন আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন আর সম্ভাবনাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়—এই ভাবনাকে সামনে রেখে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বিসিআরইসি) আয়োজিত হল ‘নবীনবরণ ২০২৬’। সোমবার কলেজের দুলাল মিত্র অডিটোরিয়ামে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে শুধু কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা বা সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে পরিচয় করানোই নয়, বরং নতুনদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ গড়ে তোলা এবং প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করে তোলাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিআরইসি সোসাইটির সভাপতি ডা. সত্যজিৎ বোস, কোষাধ্যক্ষ জার্নেল সিং, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম. হোসেন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. জি. এস. পান্ডা, সোসাইটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা। 
প্রবৃদ্ধি, স্থায়িত্ব ও জ্ঞানের বিকাশের প্রতীক হিসেবে একটি গাছে জল দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এই প্রতীকী উদ্যোগের মধ্য দিয়েই নবীনদের সামনে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের বার্তাও তুলে ধরা হয়।
স্বাগত ভাষণে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার নবাগতদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কলেজে তাদের এই নতুন যাত্রা শুধু ডিগ্রি অর্জনের নয়, বরং নিজেকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলারও সুযোগ। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, শৃঙ্খলা এবং সর্বাঙ্গীণ বিকাশের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কলেজের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: চাকরি পেতে কোন দক্ষতা সবচেয়ে জরুরি? BCREC-এর HR Conclave-এ মিলল দিশা
হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের MBA কোর্স এবার দুর্গাপুরের BCREC-তে
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিআরইসি সোসাইটির সভাপতি ডা. সত্যজিৎ বোস শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সফল কর্মজীবন গড়ে তুলতে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আজীবন শেখার মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা এবং সততা—আমাদের জীবনের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ।”
আনুষ্ঠানিক পর্বের পাশাপাশি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান, নাচ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে। প্রাণবন্ত এই আয়োজন নবীনদের জন্য কলেজ জীবনের প্রথম দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি, বন্ধুত্ব এবং আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে কলেজ কর্তৃপক্ষ আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, শুধু দক্ষ প্রকৌশলী নয়, সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য দায়িত্বশীল, নৈতিক ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত পেশাজীবী তৈরি করাই বিসিআরইসি-র লক্ষ্য। আশাবাদ, উদ্দীপনা এবং নতুন স্বপ্নকে সঙ্গী করেই শেষ হয় ‘নবীনবরণ ২০২৬’-এর এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।


