
দুর্গাপুরের বিজেপি নেতাদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে?
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক কলিমুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি শিক্ষক নেতা বিকাশ বিশ্বাস। দুর্নীতি আড়াল করতে বিজেপির নেতাদের অর্থের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন প্রধানশিক্ষক, এমন অভিযোগ তুলেছেন তিনি। (পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি দুর্গাপুর দর্পণ)
ফেসবুক পোস্টে বিকাশ বিশ্বাস দাবি করেন, প্রধানশিক্ষক কলিমুল হক নাকি ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে বিজেপির একাংশের নেতৃত্বকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “যে দুর্নীতি তিনি করেছেন এবং বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে হেনস্থা করেছেন, তার জবাব একদিন দিতেই হবে।”
বিকাশ বিশ্বাসের অভিযোগ, বিভিন্ন দুর্নীতি এবং জাল শংসাপত্র সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে নজর ঘোরাতেই রাজনৈতিকভাবে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চলছে। বিজেপির যাঁরা প্রধানশিক্ষকের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।
এই পোস্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ মঙ্গলবারই নেপালি পাড়া হিন্দি হাইস্কুলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। অনুষ্ঠানের পরদিনই এই পোস্ট করেছেন বিকাশ বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রধানশিক্ষক কলিমুল হকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যান্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হেনস্থা এবং অতিরিক্ত স্কুল ফি আদায়ের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। মঙ্গলবার কয়েকজন ছাত্রছাত্রীও মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে অতিরিক্ত ফি ফেরত এবং তদন্তের দাবি জানায়।
আরও পড়ুন: সাতসকালে দুর্গাপুরে NIA-এর হানা! নিউ স্টিল পার্ক থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি
আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে
দুর্গাপুরে মাত্র ১ টাকায় টিউশন পড়ার সুযোগ!
বিকাশ বিশ্বাস আরও দাবি করেন, অতীতে বিজেপির জেলা পরিষদ প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁর স্ত্রীর কর্মস্থলেও গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানশিক্ষক কলিমুল হক। তাঁর বক্তব্য, “এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ। স্কুলের উন্নয়নের স্বার্থে বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। এর সঙ্গে অন্য কোনও বিষয় জড়িত নয়।”
অন্যদিকে, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, “বিধায়ক হিসেবে স্কুলের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। স্কুলের পরিবেশ দেখে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি চাই, প্রায় সাড়ে চার হাজার ছাত্রছাত্রীর এই বিদ্যালয় আরও উন্নতি করুক। কেউ অভিযোগ করতেই পারেন। তবে, টাকা দিয়ে বিজেপিকে কেনা যায় না।”

